পেকুয়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে মধ্যরাতে হামলা-গুলি-লুটের অভিযোগ, আহত ভাই থানায় এজাহার দিলেন
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সাংবাদিকের বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, মালামাল লুট ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সাংবাদিকের ছোট ভাই আলা উদ্দিন (৩৭) আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল হাসান এজাহার পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন একই এলাকার জাহেদ হোছাইন, আশরাফুল মেহরাব মুহিব, আতিকুর রহমান, এনামুল হক, ইখতিয়ার উদ্দিন, মো. আবদুল্লাহ, আবদুল মজিদ, রাশেদ উদ্দিন, শহীদুল ইসলাম, এরশাদ হোছাইন, কামাল হোছাইন ও মো. রাজিব।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বসতভিটার জায়গা নিয়ে আলা উদ্দিনের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২১ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বসতভিটার পুকুর থেকে মাছ লুটের চেষ্টা করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এতে বাধা দিলে তারা আলা উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আলা উদ্দিনের স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার কানে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যান। আহত দুজনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন আসামিরা। গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, বুধবার মধ্যরাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় তৈরি বন্দুক, ধারালো কিরিচ, দা ও লোহার রড নিয়ে আলা উদ্দিনের বসতঘর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। শব্দ শুনে তিনি ঘর থেকে বের হলে জাহেদ হোছাইন ধারালো কিরিচ দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
অন্য আসামিরা তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় তারা বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলা উদ্দিনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত আলা উদ্দিন বলেন, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেন, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাই ও তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের পরই এখন জানা যাবে এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।






