নিউমার্কেটে দোকানে হামলার অভিযোগ: ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতার পদ স্থগিত
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশের এই তথ্য জানানো হয়। তিনি সহসভাপতি পদমর্যাদার এই দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তিন নেতার পদ স্থগিত করা হলো।
যাঁদের পদ স্থগিত হয়েছে তাঁরা হলেন ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, সদস্য শেখ পারভেজ মোশাররফ এবং সাগর খান। তিনজনই কলেজ শাখার দায়িত্বশীল পদে ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই পদ স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনেই ব্যবস্থাটি নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত গতকাল দুপুরে। নিউমার্কেটের গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ ওঠে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ম্যানেজার জুয়েল রানাকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোকানমালিক কর্তৃপক্ষ। একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঢাকা কলেজ রাজধানীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর নিউমার্কেট এলাকা সেই কলেজের একেবারে কাছেই অবস্থিত। ফলে কলেজকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির যেকোনো উত্তেজনার প্রভাব দ্রুত আশপাশের বাণিজ্যিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পদ স্থগিত মানে সংশ্লিষ্ট নেতারা আপাতত সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখনো জানানো হয়নি।
এখন দেখার বিষয়, হামলার অভিযোগের আইনি দিকটি কোন দিকে গড়ায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয় কি না। সেই সঙ্গে ছাত্রদলের ভেতরের তদন্তের ফলাফলও সামনে আসার অপেক্ষায় থাকবে।






