ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের ‘বাচ্চাসুলভ’ বললেন রুনি, আঙুল তুললেন ব্রুনো-মার্তিনেজের দিকে
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোটা দলটাই বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে — এমনটাই দাবি করেছেন রেড ডেভিলদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ওয়েন রুনি। দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর এই কড়া মন্তব্য ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রুনির অভিযোগ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় নিজেদের কাঁধে না নিয়ে কোচ ও কর্মকর্তাদের দিকে আঙুল তুলছেন খেলোয়াড়েরা। নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতি লুকাতেই তাঁরা এমন করছেন বলে মনে করেন তিনি।
বিশেষ করে দুজনকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রুনি — অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেজ এবং আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। রুনির মতে, এই দুজন দলের বিপক্ষে কথা বলে নিজেদের ঘাটতি আড়াল করছেন। তাই তিনি তাঁদের আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখতে বলেছেন।
রুনি বলেন, ‘এই খেলোয়াড়েরা স্বার্থপর। তারা নিজেদের সতীর্থ, কোচ, স্টাফ কিংবা সমর্থকদের কথা ভাবে না; ভাবে শুধু নিজেদের কথা।’ সাবেক এই তারকার ভাষায়, পছন্দমতো কিছু না হলেই খেলোয়াড়েরা শিশুসুলভ আচরণ করছেন এবং দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবারের ম্যাচ। ইতালির কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের পর ইউনাইটেডের অস্থিরতা আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
ম্যাচের পর ফের্নান্দেজ কোচ মাইকেল ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর আগে মার্তিনেজও ক্লাবের কর্মকর্তা জেসন উইলকক্সকে দায়ী করে মন্তব্য করেছিলেন। খেলোয়াড়দের এমন প্রকাশ্য বক্তব্যে দলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
রুনি মনে করেন, এ ধরনের আচরণ দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। ‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্যান্ড’ পডকাস্টে তিনি বলেন, মার্তিনেজের মন্তব্যের পরই তাঁর মনে হয়েছিল, পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে যেতে পারে।
রুনির ভাষায়, ‘মার্তিনেজ যখন কথা বলেছিল, আমি বলেছিলাম, এটা একেবারে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে, কারণ এতে ড্রেসিংরুমে বিভক্তি তৈরি হবে। সেখান থেকেই শুরু।’ অর্থাৎ প্রকাশ্য মতবিরোধকেই দলের সংকটের সূচনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
নিজের খেলার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুনি বলেন, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে কখনো কখনো তাঁর কথাবার্তা বন্ধ থাকলেও মাঠে তিনি কোচের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতেন। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই মানসিকতার অভাব দেখছেন তিনি।
বিশেষ করে ফের্নান্দেজকে নিয়ে রুনির পর্যবেক্ষণ আরও কঠোর। তাঁর মতে, ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর সম্ভবত এখনই সবচেয়ে বাজে ফর্মের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার। সেই পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরাতেই তিনি কোচের সমালোচনা করছেন বলে মনে করেন রুনি।
রুনির মতে, এভাবে সমস্যার সমাধান হবে না; বরং প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজের পারফরম্যান্সের হিসাব দিতে হবে। দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো বন্ধ করে মাঠের খেলায় মনোযোগ দেওয়াই এখন দলের জন্য জরুরি।
কোমোর কাছে বড় হারের পর এমনিতেই চাপে আছে ইউনাইটেড শিবির। তার ওপর ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের এমন প্রকাশ্য সমালোচনা সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন মাঠের ফল দিয়েই খেলোয়াড়দের এই সমালোচনার জবাব দিতে হবে।




