মাগুরার শ্রীপুরে মদপানে অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু, কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তে
মাগুরার শ্রীপুরে মদপান করার পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তাঁদের মৃত্যু হয়। তবে অতিরিক্ত মদপানই মৃত্যুর কারণ কি না, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মৃত দুই যুবক হলেন শ্রীপুর উপজেলার মকদমখোলা গ্রামের আজম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৪০) এবং শ্রীপুর ইউনিয়নের মালদা গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২৮)। দুজনের মৃত্যুতে দুই গ্রামেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের সার্বজনীন দুর্গামন্দির এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অ্যালকোহলযুক্ত মদ পান করেন ওই দুই যুবক। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত আলমগীরের পিতা আজম লস্কর জানান, অসুস্থ হয়ে পড়লে আলমগীর লস্করকে তাঁর বন্ধুরা বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শুক্রবার ভোরে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে অসুস্থ বিধান বিশ্বাসকেও তাঁর স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দুই যুবকের হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলেও শেষ পরিণতি একই হলো।
বিধান বিশ্বাসের কাকিমা সুপ্রিয়া সাহা জানান, বুধবার বিজয়া দশমীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর বিধান অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় পরে শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আলমগীর লস্করকে শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে স্বজনদের বরাতে জানা গেছে। অর্থাৎ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেননি চিকিৎসক।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলী মিয়া বলেন, অতিরিক্ত মদপানের কারণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও তিনি জানান। পুলিশ ও চিকিৎসক—দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্তের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
উৎসবের সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে মদপানের পর এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে মানহীন বা ভেজালযুক্ত পানীয় শরীরে দ্রুত মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করে থাকেন। তবে এই দুই যুবকের ক্ষেত্রে পানীয়ে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা চলছে—দুই যুবকের সঙ্গে আর কারা মদপান করেছিলেন এবং তাঁদের কারও শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে কি না। এ বিষয়ে প্রাথমিক খবরে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। আপাতত দুই পরিবারের শোকই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।



