মোবাইল ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, আদালতে অভিযোগপত্র
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় সিয়ামের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের তদন্ত শেষে আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়।
এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চান তিনি। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে, সেই আশা করছেন তিনি।
বাবার আরও আশঙ্কা, বয়সের ফাঁককে যেন আসামিরা কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। পরিবারের এই দাবি ও আশঙ্কার মধ্য দিয়ে এখন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে স্বজনরা।
অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে গেল। এখন আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে মামলার পরবর্তী গতিপথ।




