একই জমিতে ৫২ জাতের ধান: নিজের মাটির উপযোগী সেরা জাত খুঁজছেন কৃষকেরা
সিলেট বিভাগে একই জমিতে একসঙ্গে ৫২ জাতের ধান চাষ করে নিজের জমির জন্য সবচেয়ে উপযোগী জাতটি খুঁজছেন কৃষকেরা। সিলেট ভয়েসের খবরে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা জানা গেছে।
একটি জমিতে এতগুলো জাত পাশাপাশি চাষ করলে একই মাটি, একই পানি ও একই আবহাওয়ায় প্রতিটি জাতের বাড়বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও ফলন সরাসরি তুলনা করা যায়। কৃষকদের এই খোঁজের মূল লক্ষ্য সেই তুলনা থেকেই নিজের জমির সেরা জাতটি বেছে নেওয়া।
ধান সিলেট অঞ্চলের প্রধান ফসলগুলোর একটি। হাওর ও সমতল মিলিয়ে এই বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি মৌসুমে ধান চাষ হয়, আর জাত নির্বাচনের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে কৃষকের ফলন ও আয়।
ভুল জাত বেছে নিলে একই পরিশ্রম ও খরচের পরও ফলন কমে যেতে পারে। আবার মাটি ও পানির ধরন অনুযায়ী উপযোগী জাত পেলে কম ঝুঁকিতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা বাড়ে — কৃষকদের এই পরীক্ষামূলক চাষ সেই বাস্তবতা থেকেই।
৫২টি জাত একসঙ্গে চাষ মানে ৫২ রকম সম্ভাবনাকে একই মাঠে যাচাই করা। কোন জাত আগে পাকে, কোনটি পানিতে বেশি সহনশীল, কোনটির ফলন বেশি — এসব প্রশ্নের উত্তর মাঠ থেকেই পাওয়া যাবে বলে কৃষকেরা আশা করছেন।
সিলেট বিভাগের কৃষিতে হাওরের বোরো ধান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি থাকায় সেখানে জাত নির্বাচন আরও সতর্কতার দাবি রাখে।
এই উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য — কোন এলাকার জমিতে, কতজন কৃষক এতে যুক্ত — তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পাওয়া তথ্য বলছে, উদ্যোগটি কৃষকদের নিজেদের জমির অভিজ্ঞতা থেকেই নেওয়া।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা সাধারণত মনে করেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকের নিজের পরীক্ষা কৃষি সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক গবেষণার পাশাপাশি কার্যকর হতে পারে, কারণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় ঠিক সেই মাটিতেই যেখানে পরের মৌসুমে চাষ হবে।
ফসল ওঠার পরই জানা যাবে কোন জাতগুলো এই জমিতে সবচেয়ে ভালো করেছে। সেই ফলাফলই ঠিক করে দেবে আগামী মৌসুমে এই কৃষকদের পছন্দের তালিকায় কোন জাতগুলো থাকবে।
এক জমিতে ৫২ জাতের এই চাষ তাই শুধু একটি খবর নয়, নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৃষক-প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে ফলনের হিসাব প্রকাশ পেলে ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে।


