এনসিপির মিডিয়া সম্পাদক হলেন সাংবাদিক থেকে রাজনীতিতে আসা ইয়াসির আরাফাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াসির আরাফাত। দলটির পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়াসির আরাফাত নয় বছরের সাংবাদিকতা জীবনের ইতি টেনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের এক মাস আগে এনসিপিতে যোগ দেন। সাংবাদিকতা ছেড়ে সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর এবার তিনি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজে পড়াশোনা শেষ করে সাংবাদিকতা শুরু করেন ইয়াসির আরাফাত। পড়াশোনা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিশ্লেষণধর্মী ম্যাগাজিন ‘জবান’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকার সেই ম্যাগাজিনটি বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেশাগত জীবনে ২০১৮ সালে তিনি এনটিভিতে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালে তিনি দৈনিক সমকালে যোগ দেন এবং সেখানে সাংবাদিকতা করেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি গণমাধ্যমের ভেতরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা এখন দলের মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনসিপিতে যোগদানের সময় তিনি বাংলাদেশ ফ্রি প্রেস ইনিশিয়েটিভ নামের সংগঠনটির আহ্বায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। সংগঠনটির নেতৃত্ব ছেড়ে তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে দলীয় রাজনীতিতে মনোযোগ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক বিষয়াবলি সংরক্ষণেও কাজ করেছেন ইয়াসির আরাফাত। জুলাইয়ের গ্রাফিতি, গান, স্লোগান ও কবিতার বিশাল আর্কাইভ ‘জুলাই মেমোরিজ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
‘জুলাই মেমোরিজ’-এর ওয়েবসাইটে দেশের ১১টি জেলার প্রায় ১০ হাজার গ্রাফিতির ছবি তুলে রাখা হয়েছে। আন্দোলনের সময়ের সেই সৃজনশীল প্রকাশ সংরক্ষণের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর পরিচিতির একটি বড় অংশ।
এনসিপিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি দলের কেন্দ্রে মিডিয়াসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এনসিপির রাজনৈতিক প্রসারে কাজ করে আসছেন। কেন্দ্র ও মাঠ—দুই পর্যায়েই তিনি সক্রিয় ছিলেন।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এনসিপির হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলেও জানা গেছে। ফলে কেন্দ্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা থাকছে।
পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে দলের প্রচার ও গণমাধ্যম যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বাড়ল। দলের বক্তব্য গণমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এই পদের মূল কাজ।
সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা ব্যক্তিদের দলীয় প্রচারের দায়িত্ব দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এনসিপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নতুন কমিটির অন্যান্য পদে কারা এসেছেন, সেদিকেও রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে ইয়াসির আরাফাত দলের প্রচারকাঠামোকে কীভাবে সাজান এবং একই সঙ্গে মিরপুরে তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতি কতটা এগিয়ে নিতে পারেন।





