বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলায় শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিতে হবে ট্রাম্পকে, নির্দেশ মার্কিন বিচারকের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিবিসির বিরুদ্ধে তাঁর ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলার ‘ডিসকভারি’ পর্যায়ে শপথ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বলে রায় দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। জবানবন্দিতে সহযোগিতা না করলে তাঁর নিজের মামলাই খারিজ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিবিসির একটি প্রামাণ্যচিত্র, যেখানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হামলার আগে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তৃতার আলাদা আলাদা অংশ জোড়া দিয়ে একটি ধারাবাহিক বক্তব্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিবিসি সম্পাদনার জন্য ক্ষমা চাইলেও ট্রাম্পের মানহানির দাবির ভিত্তি আছে বলে মানতে রাজি নয়।
রায় অনুযায়ী, প্রমাণ সংগ্রহের সময়সীমা বাড়ানো না হলে ট্রাম্পকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিবিসির আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী ডিসকভারি শেষ হওয়ার কথা ১৮ ডিসেম্বর।
বিচারক এনজোলিক লেট ট্রাম্পের আইনজীবীদের জবানবন্দি জানুয়ারি পর্যন্ত পেছানোর চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অধিবেশনটি ভিডিও ধারণ করা ঠেকানোর চেষ্টাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তবে রেকর্ডিংটিতে প্রথমে কেবল মামলায় যুক্ত আইনজীবীরাই প্রবেশাধিকার পাবেন।
আলাদাভাবে বিচারক ট্রাম্পের পক্ষকে ৩০ দিনের মধ্যে বিবিসির চাওয়া প্রাসঙ্গিক নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিবিসির আইনজীবী চার্লস টবিন মিয়ামির আদালতকে বলেন, ডিসকভারির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ একপেশে—ট্রাম্পের পক্ষ ‘সারবস্তু আছে এমন একেবারেই কিছু হস্তান্তর করেনি’।
জবানবন্দি হলো আদালতের বাইরে শপথ নিয়ে দেওয়া আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য, যেখানে আইনজীবীরা প্রশ্ন করেন এবং উত্তর লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে সেই সাক্য আদালতে ব্যবহার করা যায়, এমনকি কারও বক্তব্য বদলে গেলে তাকে চ্যালেঞ্জ করতেও। ট্রাম্পের জবানবন্দি সর্বোচ্চ সাত ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালতে বিবিসির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলাটি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কিছু আগে সম্প্রচারিত ‘প্যানোরামা’ প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে।
অভিযোগে তিনি কথিত মানহানির জন্য অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ফ্লোরিডার প্রতারণামূলক ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা আইন লঙ্ঘনের জন্য আরও ৫ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানটি তাঁকে সরাসরি ক্যাপিটলে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন এমনভাবে মিথ্যাভাবে তুলে ধরে তাঁর সুনাম ও ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
প্রামাণ্যচিত্রে ব্যবহৃত উদ্ধৃতির দুটি অংশ মূল বক্তৃতায় প্রায় ৫৪ মিনিট ব্যবধানে বলা হয়েছিল। ট্রাম্পের আইনজীবীদের ভাষ্যে, সমর্থকদের ‘শান্তিপূর্ণভাবে ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজেদের কণ্ঠ তুলে ধরার’ আহ্বানটিও অনুষ্ঠানটি বাদ দিয়েছিল।
বিবিসি স্বীকার করেছে, সম্পাদনাটি এমন ভুল ধারণা তৈরি করেছিল যে ট্রাম্প সহিংস কর্মকাণ্ডের সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমা চাইলেও ক্ষতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মানহানির দাবির আইনি ভিত্তি অস্বীকার করেছে। এই বিতর্কের পর বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তাপ্রধান ডেবোরা টার্নেস পদত্যাগ করেন।
ট্রাম্প এর আগে ১৬ অক্টোবর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে রাজি হলেও জাতীয় গুরুত্বের একটি বিষয়ের কথা বলে তাঁর আইনজীবীরা সেই তারিখ বাতিল করেন। পরে তাঁরা আগামী বছরের ১১ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে তারিখ প্রস্তাব করেন। শুনানিতে টবিন বলেন, ট্রাম্প বরং জর্জিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, এবং জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করলে জবানবন্দি প্রমাণ সংগ্রহের বিদ্যমান সময়সীমার বাইরে চলে যাবে।
বিচারক লেট সতর্ক করেছেন, সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হলে মামলা খারিজসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসতে পারে। ফেডারেল দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী, অন্যসব সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে অবাধ্যতার কারণে হওয়া আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ, নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনে বাধা বা মামলার অংশ বাতিল—তবে এগুলো সম্ভাব্য শাস্তি, এখনো ট্রাম্পের ওপর আরোপিত কোনো শাস্তি নয়।





