সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার বাবা–মেয়ে নিহত: বাসে আগুন, আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ মহাসড়ক
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন সম্পর্কে বাবা ও মেয়ে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পাঠানীপুলের কাছে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাতকানিয়ার কালিয়াইশ এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও তাঁর মেয়ে মোছাম্মৎ ওয়াসিফা (৪)। চার বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। তাঁদের পরিবারের আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানিহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ সদস্যদের দিকে অবরোধকারীরা তেড়ে আসেন এবং তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও কাজে বাধা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছু লোক পুলিশের দিকে তেড়ে এসে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দেন।’
আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করলে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আহত চারজনের চিকিৎসা চলছে, আর নিহত বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয়রা।






