খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: কেডিএর প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলীসহ (চলতি দায়িত্ব) আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলমের পাশাপাশি অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কেডিএর সাবেক ও বর্তমান একাধিক প্রকৌশলী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী মামলার অনুমোদনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাসসের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ অনুমোদন মিললেও মামলা এখনো দায়ের হয়নি; শিগগিরই তা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের ওই কর্মকর্তা।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান এবং ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান।
কেডিএর পক্ষ থেকে অভিযুক্ত অন্যরা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস এবং উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন মিলেছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনুসন্ধান শেষে কমিশন মামলার অনুমোদন দেওয়ায় এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়েরের পথ খুলল।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে এর নির্মাণকাজের অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ওই সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওই ক্ষোভ ও নির্দেশনার পর প্রকল্পটির অনিয়ম খতিয়ে দেখার গতি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দুদকের মামলার অনুমোদনকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খুলনা দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।
মামলা দায়েরের পর তদন্ত, অভিযোগপত্র এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে। অভিযুক্তরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার আসামি হননি; তবে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এই প্রকল্প-দুর্নীতির অভিযোগ এবার আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ এই সড়ক প্রকল্পের কাজ কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে দুদকের এই পদক্ষেপে প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নতুন করে তৈরি হয়েছে।






