নিজেকেই ছাঁটাই করতে চান মার্কিন শিক্ষামন্ত্রী ম্যাকমাহন, কংগ্রেসকে দেখাতে চান মন্ত্রণালয়ই অপ্রয়োজনীয়
নিজেকেই ‘চাকরি থেকে ছাঁটাই’ করার লক্ষ্যের কথা আবারও জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন। কংগ্রেসকে তিনি বোঝাতে চাইছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন) নামের আলাদা ফেডারেল সংস্থাটির আর প্রয়োজন নেই।
ফক্স নিউজ ডিজিটালকে ম্যাকমাহন বলেন, আন্তঃসংস্থা চুক্তি স্বাক্ষরের মানে হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য সংস্থাগুলোকে চুক্তির ভিত্তিতে সেই কাজগুলো করতে দিচ্ছে, যেগুলো আইনত তাদের দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কাজের প্রথম বড় অংশটি ইতিমধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ে (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারজুড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে প্রশাসনকে সংস্থাটি ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।
সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শ্রম মন্ত্রণালয় এখন বড় ভূমিকা নিচ্ছে—ওয়ার্কফোর্স ইনোভেশন অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (ডব্লিউআইওএ) এবং পারকিন্স অ্যাক্টের আওতায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা, পরিবার সাক্ষরতা এবং ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা (সিটিই) কর্মসূচির দৈনন্দিন প্রশাসন চালাচ্ছে তারা। তবে বিধিবদ্ধ দায়িত্ব ও তদারকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকছে; সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ যাচ্ছে রাজ্য ও অনুদানগ্রহীতাদের কাছে।
ম্যাকমাহন ধারাবাহিকতাটি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘শুরু হয়েছিল সিটিই—ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন—দিয়ে, তারপর কে-১২, এবং সবশেষে উচ্চশিক্ষাও।’
তাঁর মূল যুক্তি হলো, আলাদা মন্ত্রণালয় না থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল সহায়তা থামবে না—আইনপ্রণেতাদের সেটাই প্রমাণ করে দেখাতে চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসকে এই আন্তঃসংস্থা চুক্তিগুলোর মাধ্যমে প্রমাণের সুযোগ চেয়েছি: আমাকে প্রমাণ করতে দিন যে এটা কাজ করে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকেই ভোট দিতে হবে—আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বন্ধ করব কি না, এবং আমি সত্যিই নিজেকে ছাঁটাই করতে পারব কি না। আশা করি তারা (পক্ষে) ভোট দেবে, কারণ আমি বিশ্বাস করি ফলাফল শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে—আর সেটাই লক্ষ্য। সেটা অবশ্যই প্রেসিডেন্টেরও লক্ষ্য।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরেকটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে। ট্রেজারি ফেডারেল শিক্ষার্থী ঋণ এবং খেলাপি ঋণ আদায়সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিতে সম্মত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ট্রেজারির সঙ্গে শিক্ষার্থী ঋণের অংশীদারত্ব এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কর্মশক্তি উদ্যোগ—দুটোই বৃহত্তর আন্তঃসংস্থা চুক্তির সারির অংশ। লক্ষ্য হলো কংগ্রেসের কাছে ‘ধারণার প্রমাণ’ হাজির করা যে অপরিহার্য ফেডারেল শিক্ষা কার্যক্রম ও অর্থপ্রবাহ কোনো বিঘ্ন ছাড়াই নির্বাহী শাখার অন্য সংস্থাগুলোতে সরিয়ে নেওয়া যায়।
ম্যাকমাহন বলেন, ‘আমি এটাকে কংগ্রেসের কাছে আমার প্রমাণ বলি—এটা কাজ করে, টাকা স্কুলে ও শিক্ষার্থীদের কাছে ঠিকঠাক পৌঁছায়, যেখানে দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মসূচি অন্য সংস্থায় নকল হচ্ছিল, অথবা অন্যত্র আরও ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। তাই আসুন দক্ষ হই। টাকা যেখানে যাওয়া দরকার সেখানে পৌঁছানো নিশ্চিত করি, শিক্ষার্থীদের ফলাফল দিয়ে তা মাপি, আর শিক্ষক ও প্রশাসকদের তাঁদের কাজের জন্য জবাবদিহি করি।’
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের উচ্চশিক্ষা নীতিবিষয়ক গবেষণা ফেলো অ্যান্ড্রু গিলেন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, শিক্ষার্থী ঋণ ও ফর্মুলা অনুদানের মতো মূল দায়িত্ব সরিয়ে নেওয়া আগের আন্তঃসংস্থা চুক্তিগুলোর তুলনায় বড় পরিবর্তন—আগের চুক্তিগুলো সাধারণত ছোটখাটো প্রশাসনিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ ছিল।
এর আগে সরকারি শাটডাউনের সময়ও ম্যাকমাহন যুক্তি দিয়েছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মূলত ফেডারেল অর্থের একটি প্রবাহ-মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং এর দৈনন্দিন কাজ অপরিহার্য নয়। তাঁর ভাষায়, ‘কংগ্রেস অর্থ বরাদ্দ দেয়। অর্থ শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে আসে, আর সেই তহবিলের কিছু অংশ আবার অন্য সংস্থা হয়ে শিক্ষার্থী ও স্কুলে যায়। মূলত অর্থ শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যেত।’
প্রশাসন সংস্থাটির আকার কমানোর দিকেও এগোচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল, তারা লিন্ডন বি. জনসন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন ছেড়ে দিয়েছে, যাতে আগস্টের মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সেখানে উঠতে পারে। কর্মকর্তারা এটিকে করদাতাদের শত শত মিলিয়ন ডলার বাঁচানো এবং ফেডারেল শিক্ষা আমলাতন্ত্র আরও কমানোর বিচক্ষণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন।
পাশাপাশি রাজ্যগুলোকে আরও ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে, যাতে রাজ্যগুলো ফেডারেল শিক্ষা তহবিল ব্যবহারে আরও নমনীয়তা এবং প্রশাসনিক বোঝা কমানোর আবেদন করতে পারে। আইওয়া প্রথম রাজ্য হিসেবে এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে চিঠি দিয়ে এই ছাড়ের আবেদনে উৎসাহিত করেছিল, যা রাজ্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের ফেডারেল ডলারের ওপর আরও বেশি বিবেচনা-ক্ষমতা দেবে এবং অনুপালন খরচ কমাবে।
এখন সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের হাতে—ম্যাকমাহনের ‘প্রমাণ’ আইনপ্রণেতাদের রাজি করতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ এবং মন্ত্রীর নিজের চাকরির ভবিষ্যৎও।





