যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে বেপরোয়া দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত, আশঙ্কাজনক আরও দুজন
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে বেপরোয়া গতির দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন যশোরের বেজপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জয় (২২), একই এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন রোহান (১৮) এবং মণ্ডলগাতী গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (১৭)। তিনজনেরই বয়স তরুণ — একজনের বয়স মাত্র ১৭ বছর।
আহত দুজন হলেন মণ্ডলগাতী গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত। তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে আরিফুল ইসলাম জয় ও শাহরিয়ার হোসেন রোহান বেনাপোল থেকে যশোরে ফিরছিলেন। একই সময়ে যশোর থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন সিয়াম হোসেন, ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত। নতুনহাট এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই মোটরসাইকেলের চালক জয় ও সিয়াম এবং জয়ের সঙ্গে থাকা আরোহী রোহান। আহত হন বেনাপোলগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন হোসেন বলেন, দুটি মোটরসাইকেলই দ্রুতগতিতে চলছিল। নতুনহাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এত রাতে উঠতি বয়সী যুবকেরা কোথায় যান, কী করেন — সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা খাতুন বলেন, রাত হলেই যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে উঠতি বয়সী যুবকদের আনাগোনা বাড়ে। অধিকাংশ মোটরসাইকেলেই তিনজন করে থাকেন এবং তাঁরা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করেন। এসব দলে শুধু তরুণ নন, বেশ কয়েকজন তরুণীও রয়েছেন বলে জানান তিনি।
নাভারণ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মো. কেরামত আলী জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে চলাচল, গভীর রাতে বেপরোয়া গতি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ — এই দুর্ঘটনার প্রতিটি উপাদানই দেশের সড়ক নিরাপত্তা সংকটের পরিচিত ছবি। মহাসড়কে রাতের বেলা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ অনেক দিনের।
তিন তরুণের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। বেজপাড়া ও মণ্ডলগাতী এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমেছে। একসঙ্গে একই এলাকার এতজন তরুণের প্রাণহানি এলাকাবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে।
আহত দুজনের চিকিৎসা চলছে যশোর জেনারেল হাসপাতালে। তাঁদের অবস্থার উন্নতি হয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পরিবার ও স্বজনেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে বেপরোয়া গতি ও নিয়ম ভাঙার প্রবণতা কীভাবে মুহূর্তে তরুণ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী — সবার ভূমিকাই এখন সামনে আসছে।




