চাকসুর মেয়াদ শেষ, বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় পরের নির্বাচন নিয়ে সংশয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সপ্তম কেবিনেটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)। বছরজুড়ে সংসদটির নানা সফলতা ও ব্যর্থতার হিসাব ছাপিয়ে এখন ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বড় আলোচনা পরবর্তী চাকসু নির্বাচন কবে হবে।
চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এক বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
কিন্তু এখনো নির্বাচনের কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। তার ওপর চলতি বাজেটে নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ না থাকায় পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও গণতান্ত্রিক চর্চা, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার জন্য দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
চবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন বলেন, চাকসু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিছু ঘাটতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সংসদটি অনেক কাজ করেছে। তাঁর ভাষায়, পরবর্তী নির্বাচন না হলে এসব কাজের ধারা থমকে যাবে, তাই তাঁরা দ্রুত পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চাকসু নেতারাও। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, চাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা ছিল তাঁদের অন্যতম ইশতেহার। প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকেই তাঁরা এই দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করেনি।
তিনি আরও বলেন, অবশ্যই তাঁরা চাকসু নির্বাচন চান এবং তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতে হবে। কারও ষড়যন্ত্র বা ভয়ভীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন থেকে পিছিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে যথাসময়ে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
উপাচার্য বলেন, চাকসুকে তাঁরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন, কারণ চাকসুর অধিকাংশ কাজই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের মধ্যে চাকসুকে যথাসম্ভব কার্যকর রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, চাকসু অনেক বেশি কার্যকর একটি ছাত্র সংসদ ছিল।
পরের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। শান্ত, স্থিতিশীল ও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে যথাসময়ে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে — এটাই প্রশাসনের বক্তব্য।
দীর্ঘ তিন যুগ পর গত বছরের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছিল চাকসু নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন ২৩ অক্টোবর।
ফলে এখন প্রশ্ন একটাই — গঠনতন্ত্রের তিন মাসের সময়সীমার মধ্যে প্রশাসন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও বাজেটের সংস্থান করতে পারবে কি না। শিক্ষার্থী ও চাকসু নেতাদের দাবি আর প্রশাসনের আশ্বাসের মধ্যে সেই ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো ক্যাম্পাস।





