কিউবায় পরিবর্তনকামীদের সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারত্বের’ আহ্বান রুবিওর
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবায় পরিবর্তন প্রত্যাশীদের দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারত্ব’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, যাঁরা কিউবায় ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ আনতে চান, তাঁদের জন্য ‘এখনই সময়’।
রুবিও লিখেছেন, ব্যর্থ প্রতিশ্রুতির হতাশা, দুর্নীতি এবং হাতে গোনা কয়েকজনের সুবিধাভোগী জীবনের বিপরীতে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেই পরিবর্তন আসতে পারে সিআইএর সঙ্গে একটি গোপন অংশীদারত্বের মধ্য দিয়ে।
এই আহ্বান বিচ্ছিন্ন কোনো মন্তব্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন বারবারই বলে আসছে, তাদের লক্ষ্য হাভানার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ার মুখে’ রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়ান ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর তিনি দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর তেল অবরোধের ঘোষণা দেন।
সে সময় নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থের ওপর ভর করে বেঁচে ছিল। তাঁর ঘোষণা ছিল স্পষ্ট — ‘কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না — শূন্য!’
একই পোস্টে তিনি কিউবাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই একটি চুক্তি করার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তাও ছিল তাঁর কথায়।
সেপ্টেম্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেছিলেন, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হবে বলে তিনি মনে করেন। ‘আমি বলব, কিউবা ও আমাদের মধ্যে চুক্তি হবে,’ বলেছিলেন তিনি; সঙ্গে যোগ করেছিলেন, সামরিক শক্তির প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।
এর মধ্যেই সিআইএ কিউবানদের জন্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করার কিছু পরামর্শও প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিচয় বা কর্মস্থলের সঙ্গে যুক্ত কোনো ডিভাইস বা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার না করতে এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস থেকে সব সফটওয়্যার, অ্যাপ ও প্রোগ্রাম সরিয়ে ফেলতে।
সংস্থাটি আগ্রহীদের কাছে জানতে চেয়েছে তাঁদের অবস্থান, চাকরির পদবি এবং সংস্থার আগ্রহের বিষয় হতে পারে এমন তথ্যে তাঁদের প্রবেশাধিকারের ধরন বা মাত্রা। এসব পরামর্শ থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন কিউবার ভেতরে তথ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক গড়তে প্রকাশ্যেই আগ্রহী।
রুবিওর এই পোস্ট এমন এক সময়ে এল, যখন কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে গোয়েন্দা তৎপরতার আহ্বান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। হাভানা এই আহ্বানের জবাবে কী বলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিশ্লেষকদের চোখে, প্রকাশ্যে এ ধরনের আহ্বান কিউবার নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলেরই অংশ। তবে এর বাস্তব প্রতিক্রিয়া দ্বীপের ভেতরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর।





