হামের উপসর্গ নিয়ে সুনামগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগে পরিবার ও এলাকাবাসী
সুনামগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এই মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এই ঘটনা জেলাজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রশ্ন উঠেছে।
এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে শিশু দুটির নাম, বয়স বা ঠিক কোন এলাকার বাসিন্দা তারা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা চিকিৎসা চলাকালে মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও প্রাথমিক খবরে স্পষ্ট করা হয়নি।
হাম একটি ভাইরাসজনিত ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সাধারণভাবে এই রোগে আক্রান্ত শিশুর শরীরে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম।
চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, হামের জটিলতা কখনো কখনো নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর আকার নিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার কথা বারবার বলা হয়।
এই দুই মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ হামই ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে হলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে। উপসর্গের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে হামের কথা বলা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত জেলা। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে অসুস্থ শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অনেক পরিবারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এলাকাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
টিকাদান হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের নির্দিষ্ট বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। কোনো শিশুর টিকা বাদ পড়ে থাকলে তা সম্পন্ন করার বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকায় আরও কারও শরীরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ এলাকায় খোঁজখবর নেয় এবং উপসর্গযুক্ত শিশুদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অভিভাবকদের জন্য সাধারণ সতর্কবার্তা হলো, শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং নিজে নিজে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে তা জরুরি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
দুই শিশুর মৃত্যুর এই খবর সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোর অভিভাবকদেরও সতর্ক করেছে। হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকায় টিকাদান ও প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
এখন সবার অপেক্ষা স্বাস্থ্য বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে। মৃত্যুর কারণ, শিশু দুটির পরিচয় এবং এলাকায় প্রতিরোধমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।



