বার্সেলোনার নজরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান
ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে বরাবরই তৎপর বার্সেলোনা। এবার স্প্যানিশ ক্লাবটির নজর পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাভান সুলিভানের ওপর। কাভান আবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, যা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে।
কাভান মূলত ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলার, তবে এই মুহূর্তে ধারে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলছেন। ম্যানসিটির আর্থিক অনিয়মের মামলাকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিভাবান এই তরুণকে দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বার্সা।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই তরুণ মিডফিল্ডারের ওপর নিয়মিত নজর রাখছে বার্সেলোনার ক্রীড়া বিভাগ। সুলিভানের ইউরোপযাত্রা নিয়ে নতুন কোনো সুযোগ তৈরি হলে তাঁকে দলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ক্লাবটি।
কাভানের পারিবারিক যোগসূত্র বাংলাদেশের সঙ্গে আরও গভীর। তাঁর দুই ভাই ডেকলান ও রোনান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে খেলে ফেলেছেন। ফলে সুলিভান পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের সম্পর্ক নতুন নয়।
তবে সুলিভানের ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাবটা এখনো সহজ নয়। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই একটি প্রাথমিক চুক্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। ১৮ বছর পূর্ণ হলে সেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে এত দিন এগিয়ে ছিল ইংলিশ ক্লাবটিই।
কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির আইনি অনিশ্চয়তা ক্লাবটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণেই ক্লাবটির সঙ্গে ভবিষ্যৎ চুক্তিতে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের গন্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুলিভানকে নিয়ে ইউরোপের একাধিক বড় ক্লাবের আগ্রহের খবর আগেও আলোচনায় ছিল। বার্সেলোনার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, লিভারপুল ও পিএসজি একসময় তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক চুক্তির খবর সামনে আসে।
সুলিভানের প্রতিনিধিরাও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর এজেন্ট জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা আগে থেকে বলা কঠিন।
এজেন্টের ভাষ্য ছিল, ‘কী ঘটবে, তা কখনোই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আমরা আশা করি, তারা বিষয়টি সর্বোত্তম উপায়ে সমাধান করবে।’ তবে এই বক্তব্য থেকে সুলিভান ম্যানচেস্টার সিটি�� সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে আসতে চান—এমন কোনো ইঙ্গিত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায় না।
বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা খোঁজার কৌশলের সঙ্গে সুলিভানকে নিয়ে তাদের আগ্রহের বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ক্রীড়া পরিচালক ডেকো ও তাঁর দল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করা এবং উপযুক্ত সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
শেষ পর্যন্ত কাভান সুলিভানের ইউরোপযাত্রা কোন ক্লাবের হয়ে ঘটবে, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে বার্সেলোনার মতো ক্লাবের নজরদারি তালিকায় থাকাটাই এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণের প্রতিভার বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।



