কাউকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই, বললেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, কাউকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। একসময় জামায়াতকে বাদ দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার ফল কী হয়েছে জাতি দেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে উপজেলা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কোনো দল নির্ধারণ করবে না কে রাজনীতি করবে আর কে করবে না; তা নির্ধারণ করবে জনগণ।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সব ধরনের সংকট থেকে উত্তরণে দেশে স্থিতিশীলতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সরকারকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিকেই স্থিতিশীলতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ ও সুনীল শুভ রায়সহ অনেকে।
এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, উপজেলা ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সমস্যা সমাধান এবং সরকারি সেবা সহজলভ্য করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজ নিজ এলাকায় থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
হাওলাদার আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় পার্টি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলেও দাবি করেন তিনি।
সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রতনা, সোলায়মান আলম শেঠ, চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত সরুর মাওলা, মো. জসিম উদ্দীন ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, আমানত হোসেন ও মো. বেলাল হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন আহমেদ শিপু, সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাত, ডা. সেলিমা খান, মাহমুদা রহমান মুন্নি, নাজনীন সুলতানা, শেখ মো. আলমগীর হোসেন ও মিজানুর রহমান দুলালসহ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরাও সভায় ছিলেন।
উপজেলা দিবসের এই আলোচনায় একদিকে যেমন উপজেলা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
এখন দেখার বিষয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরির এই আহ্বানে সরকার ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে সাড়া দেয় এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তা কতটা ভূমিকা রাখে।




