হামের উপসর্গে সুনামগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু, জেলাজুড়ে উদ্বেগ
হামের উপসর্গ নিয়ে সুনামগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সিলেট বিভাগের এই জেলায় শিশুমৃত্যুর খবরে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
একই সময়ে সারা দেশে হামের প্রকোপ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৬৫ শিশু। সুনামগঞ্জের দুই শিশুর মৃত্যু এই বড় চিত্রেরই অংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২২ জনে। এর মধ্যে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ১১৮ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।
দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ হাজার ৩২৪ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন, যাদের মধ্যে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেই দেখা যাচ্ছে সংক্রমণের গতি কমেনি। এই সময়ে ৫১ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ১৪ শিশু।
সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত জেলা, যেখানে অনেক এলাকায় হাসপাতালে পৌঁছানো সময়সাপেক্ষ। এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় শিশু অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টি পরিবারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, আর হামের মতো দ্রুত ছড়ানো রোগে এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হয়।
হামে আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু, আর মৃত্যুর তালিকাতেও শিশুদের নামই আসছে প্রতিদিন। সুনামগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু তাই শুধু একটি জেলার খবর নয়, বরং সারা দেশের শিশুস্বাস্থ্য সংকটেরই প্রতিচ্ছবি।
পরিবারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুর জ্বর ও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। জাতীয় পরিসংখ্যানে প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যোগ হওয়ায় এই সচেতনতাই প্রথম প্রতিরক্ষা।
সিলেট বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও হামের পরিস্থিতি নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জের ঘটনার পর বিভাগজুড়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের এই পর্যায়ে এসে প্রশ্ন উঠছে, সংক্রমণের গতি কবে কমবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বিজ্ঞপ্তিতেই মিলবে সেই উত্তর—আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করলেই বোঝা যাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে।
আপাতত সুনামগঞ্জের দুই শিশুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে তাদের পরিবারে, আর জেলার অন্য অভিভাবকদের মধ্যে বেড়েছে সতর্কতা। শিশুদের উপসর্গের দিকে বাড়তি নজর রাখার আহ্বানই এখন স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত পদক্ষেপে হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সুনামগঞ্জসহ সারা দেশে শিশুমৃত্যুর এই ধারা বন্ধ হবে।


