ট্রাম্পের শুল্কে চাপে কানাডা: ইস্পাত রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে, বাড়ছে পরিবারগুলোর খরচ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে কানাডার অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে। প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক এখনো বহাল থাকায় চাকরি হুমকিতে পড়েছে এবং পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও অটোমোবাইল খাত। ব্যাংক অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইস্পাত রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, আর চলতি বছরের শুরুতে কাঠের রপ্তানি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানও কমেছে।
কানাডার সাধারণ পরিবারগুলোও এই চাপ টের পাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভোক্তা মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি ছিল; মুদিপণ্যের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
আমেরিকান পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্কও খরচ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, শুল্কে আক্রান্ত পণ্য—মুদিসামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, আসবাব, ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রপাতি—এর দাম তুলনামূলকভাবে আক্রান্ত নয় এমন পণ্যের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বাণিজ্যবিরোধের শিকড় নতুন নয়। কনজিউমার চয়েস সেন্টারের উত্তর আমেরিকা–বিষয়ক ব্যবস্থাপক ডেভিড ক্লেমেন্ট বলেন, দুগ্ধপণ্যে বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ বহুলাংশে যৌক্তিক; কানাডা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব দেশ থেকে মুরগি, টার্কি, ডিম, পনির ও দুধ আমদানিতে অত্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ করে।
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট লিনসিকম বলেন, ২০২৫ সালের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা বাণিজ্যের ৯৯ শতাংশেরও বেশি ছিল শুল্কমুক্ত; আলোচকেরা ঐতিহাসিকভাবে দুগ্ধের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে বিরোধ মেনে নিয়ে বৃহত্তর সম্পর্ক রক্ষা করতেন। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত সেই সমঝোতায় রাজি হয়নি।
নরম কাঠ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে; কানাডার কাঠ রপ্তানি নিয়ে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার সংঘাত পুরোনো ইতিহাস।
ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অধীনে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে; আলোচনা ভেঙে গেছে এবং দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুগ্ধপণ্য পুরো বাণিজ্য সম্পর্কের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র; তবু সেই বিরোধই এখন দুই মিত্র অর্থনীতির বৃহত্তর সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।
আগামী দিনে আলোচনা আবার শুরু হয় কিনা এবং শুল্কের বোঝা কমে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে সীমান্তের দুই পারের শিল্প ও পরিবারগুলোর স্বস্তি।





