…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › খেলা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
খেলা

রোববারের এল ক্লাসিকোর আগে ফিরে দেখা: ইতিহাসের সেরা পাঁচ বার্সা–রিয়াল লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটি আবার দরজায় কড়া নাড়ছে। রোববার লা লিগার বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ—‘এল ক্লাসিকো’ নামে পরিচিত এই দ্বৈরথের বয়স এক শতাব্দীর বেশি, এবং এবারের ম্যাচের আগে দুই দলের জয়ের সংখ্যা সমান সমান, ১০৬টি করে।

১৯০২ সাল থেকে চলে আসা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরেও লড়াইটা সব সময় মর্যাদার। মাঠের তিন পয়েন্টের পাশাপাশি সমর্থকদের কাছে বড়াই করার অধিকারও ঝুলে থাকে এই ম্যাচে। ইতিহাসজুড়ে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের অনেকেই এই মঞ্চে খেলেছেন।

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথের যুগ পেরিয়ে এখন আলো বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার দিকে, আর রিয়াল শিবিরে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে। তার আগের প্রজন্মে নেইমার জুনিয়র, লুইস সুয়ারেজ, ডেভিড বেকহ্যাম ও জিনেদিন জিদানের মতো তারকারাও এই ম্যাচকে সমৃদ্ধ করেছেন। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ দর্শক ঐতিহ্যগতভাবে এই লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

এবারের ক্লাসিকোর আগে ফিরে দেখা হচ্ছে ইতিহাসের সেরা পাঁচটি বার্সা–রিয়াল ম্যাচ। তালিকার প্রথম ম্যাচটি বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জয়গুলোর একটি—সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ করা সময়ে মেসির গোলে জেতা সেই থ্রিলার।

সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে কাসেমিরোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল, কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরান মেসি। বিরতির পর ইভান রাকিতিচের গোলে পিছিয়ে থেকে এগিয়ে যায় বার্সা, আর মেসির ওপর দুই পায়ের লাঞ্জে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রিয়াল অধিনায়ক সের্খিও রামোস—স্বাগতিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ৮৫ মিনিটে হামেস রদ্রিগেজ সমতা ফেরালে রিয়াল সমর্থকেরা স্বস্তি পেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ কিকে জয়সূচক গোল করে দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন মেসি; সেটি ছিল বার্সার জার্সিতে তাঁর ৫০০তম গোল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান সেই ম্যাচ ইতিহাসের সেরা ক্লাসিকোগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। জয়টি বার্সাকে সাময়িকভাবে টেবিলের শীর্ষে তুললেও মৌসুম শেষে কাতালানদের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে থেকে সেবার স্পেনের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিয়ালই।

তালিকার দ্বিতীয় ম্যাচটি ক্যাম্প ন্যুতে—যেখানে মেসির জাদুর প্রথম ঝলক দেখেছিল ফুটবলবিশ্ব। তখন মাত্র ১৯ বছর বয়সী মেসি, পূর্ণাঙ্গ তারকা হওয়ার অনেক আগেই, রিয়ালের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন এবং ১০ জনে পরিণত হওয়া স্বাগতিকদের ড্র এনে দেন।

সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে রুড ভান নিস্তেলরয় দুবার জাল খুঁজে পান রিয়ালের হয়ে, দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করেন রামোস; কিন্তু প্রতিবারই বার্সাকে ম্যাচে ফেরান মেসি, শেষ গোলটি আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। তাঁর সেই পরিণত হওয়ার পারফরম্যান্স ছিল পরের বছরগুলোর আধিপত্যেরই পূর্বাভাস। মজার বিষয়, মৌসুম শেষে দুই দলই ৭৬ পয়েন্টে শেষ করলেও মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসেবে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।

তৃতীয় ম্যাচে নিজেদের মাঠে দাপুটে জয় পেয়েছিল রিয়াল—তখন দলটি ছিল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের কেনা বিপুল ব্যয়ের বিশ্বমানের তারকাদের ‘গ্যালাক্তিকোস’ যুগে। শুরুতেই গোল করেন ফরাসি মহাতারকা জিদান, ব্রাজিলের রোনালদো নাজ়ারিও ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, এরপর জাল খুঁজে পান রাউল, আর ৬৫ মিনিটে মাইকেল ওয়েন গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

সেদিন রিয়ালের হয়ে মাঠে ছিলেন বেকহ্যাম, রবার্তো কার্লোস, লুইস ফিগো ও ইকের কাসিয়াসের মতো তারকারাও। বার্সার হয়ে স্যামুয়েল এতো ও রোনালদিনহো গোল করলেও তা যথেষ্ট ছিল না; রিয়াল দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেয়। তবে মজার মোড় হলো, মৌসুম শেষে লিগ শিরোপা জিতেছিল বার্সেলোনাই—শীর্ষে থেকে তারা শেষ করেছিল তিন পয়েন্ট এগিয়ে।

চতুর্থ ম্যাচটি বার্নাব্যুতেই এক গোল-উৎসব। তিয়েরি অঁরি ও মেসির জুটি সেদিন রিয়াল সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল। ১৪ মিনিটে গনজ়ালো ইগুয়াইনের গোলে রিয়াল এগিয়ে গেলে স্বাগতিক সমর্থকেরা ভালো ফলের আশা করেছিলেন, কিন্তু চার মিনিটের মধ্যে অঁরি সমতা ফেরাতেই চিত্র বদলাতে শুরু করে।

এরপর যা ঘটে তা ছিল রীতিমতো গোলের বন্যা—অঁরি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন, মেসিও জোড়া গোল করেন, আর কার্লেস পুয়োল ও জেরার্ড পিকেও গোলের তালিকায় নাম তোলেন। দ্বিতীয়ার্ধে রামোসের গোল তেমন কোনো অর্থ বহন করেনি; নিজেদের মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে বিধ্বস্ত হয় রিয়াল। সেই মৌসুমে লিগে আরামদায়কভাবেই চ্যাম্পিয়ন হয় বার্সেলোনা, রিয়ালের চেয়ে নয় পয়েন্ট এগিয়ে থেকে।

তালিকার শেষ ম্যাচটি রোনালদোর বিশেষ এক মুহূর্তের গল্প—২০১১ সালের কোপা দেল রে ফাইনাল। ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, এবং অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন পেনাল্টি শুটআউটেই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

কিন্তু সেখানেই আসে রোনালদোর জাদুর মুহূর্ত। আনহেল দি মারিয়ার পাস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে পর্তুগিজ তারকা রিয়ালকে এনে দেন তৎকালীন ম্যানেজার জোসে মরিনিওর অধীনে প্রথম শিরোপা। এরপরপরই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে দি মারিয়া মাঠ ছাড়লেও ক্ষতি হয়নি—রোনালদোর হেডেই ১৯৯৩ সালের পর প্রথম ঘরোয়া কাপ জেতে রিয়াল।

এই পাঁচ ম্যাচই দেখিয়ে দেয় কেন এল ক্লাসিকো শুধু একটি লিগ ম্যাচ নয়। প্রতিটি প্রজন্মেই এই লড়াই তৈরি করেছে নতুন নায়ক, নতুন বিতর্ক আর দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো মুহূর্ত। রোববারের ম্যাচে জিতলেই যেকোনো এক দল ১০৬ জয়ের সমতা ভেঙে ঐতিহাসিক হিসাবেও এগিয়ে যাবে—সেই বাড়তি উত্তেজনা নিয়েই মাঠে নামবে ইয়ামাল-এমবাপ্পেদের প্রজন্ম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

খেলা বিভাগের আরও খবর

খেলা

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক মাহমুদ জামাল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক মাহমুদ জামাল মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্…

খেলা

৪৬ বছর বয়সে আবার মাঠে রোনালদিনহো: ১৫ নভেম্বর র‍্যাভেনার জার্সিতে অভিষেক

পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের প্রায় এক দশক পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের মাঠে ফিরছেন ৪৬ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো গাউচো। আগামী ১৫ নভ…

খেলা

অনুশীলনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বায়ার্ন কোচ কোম্পানি, কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে

বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি শুক্রবার অনুশীলনের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে…