শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে স্ত্রীর চিঠি: স্বামীর জন্য ভালো চাকরি আর মানসিক শান্তির প্রার্থনা
স্বামীর জন্য একটি ভালো চাকরি এবং মানসিক শান্তি কামনা করে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি দিয়েছেন এক নারী। নাম-পরিচয়হীন ওই চিঠিতে স্বামীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তার মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন স্ত্রী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেকচির টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। এ সময় টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি ভক্তদের লেখা বিভিন্ন চিঠি পাওয়া যায়। এসব চিঠিতে ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট, প্রার্থনা ও শুভকামনার কথা তুলে ধরেছেন অনেকে।
এর মধ্যে এক নারীর চিঠিটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘হে শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আপনার উছিলায় আমার আহাল (স্বামী)-উনাকে একটা ভালো চাকরি দিন এবং উনার মানসিক শান্তি দান করুন।’
চিঠিতে ওই নারী নিজের নাম বা ঠিকানা উল্লেখ করেননি। স্বামীর পরিচয় কিংবা তার চাকরির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফলে কে এই স্ত্রী, তার স্বামী কোন পরিস্থিতিতে আছেন—তা জানা সম্ভব হয়নি।
তবে নামহীন এই চিঠিতেই ফুটে উঠেছে একটি পরিবারের কর্মসংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা আর মানসিক অশান্তির চিত্র। ভালো একটি চাকরির আকাঙ্ক্ষা আর প্রিয়জনের মানসিক শান্তির প্রার্থনা—দুটি বিষয়ই চিঠিটিকে অন্য চিঠিগুলো থেকে আলাদা করে তুলেছে।
মাজারের দানবাক্সে ভক্তদের চিঠি পাওয়া নতুন কিছু নয়। দানবাক্স ও ডেকচি খোলা হলে নগদ অর্থ আর বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি এমন অনেক চিঠি মেলে, যেখানে ভক্তরা তাদের জীবনের নানা সমস্যা, অসুস্থতা, পারিবারিক সংকট আর আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা লিখে থাকেন।
এবারের গণনা ছিল পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে অর্থ গণনা। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে এই গণনা কার্যক্রম চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করা হবে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দানের অর্থের ব্যবহার নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সিলেটের সবচেয়ে পরিচিত ধর্মীয় স্থানগুলোর একটি। সারা বছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন, দান করেন এবং নিজেদের মনোবাঞ্ছা জানিয়ে প্রার্থনা করেন। দানবাক্সের চিঠিগুলো সেই বিশ্বাস আর আকাঙ্ক্ষারই একেকটি দলিল।
এবারের গণনায় পাওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে স্ত্রীর এই আবেগঘন চিঠিটি তাই শুধু একটি কাগজের টুকরো নয়—এটি একটি পরিবারের কর্মহীনতার দুশ্চিন্তা আর মানসিক শান্তি খোঁজার গল্পও বটে।




