বগুড়ায় তিন হাজার প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক তুলে দিল এনসিসি ব্যাংক
কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বগুড়ায় তিন হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি। বিশেষ সিএসআর কর্মসূচির আওতায় জেলার বাগবাড়ী, পদ্মপাড়া ও মহাস্থানগড় এলাকায় সম্প্রতি এই বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ, সরিষা বীজ, বিভিন্ন ধরনের সার এবং কীটনাশক। মৌসুমের শুরুতেই এসব উপকরণ হাতে পেয়ে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাগবাড়ীর গাবতলীতে সরকারি শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করেন বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম।
অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ এবং গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ ব্যাংক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন কৃষকদের কল্যাণে এনসিসি ব্যাংকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি কৃষকদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি এনসিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিম বলেন, এনসিসি ব্যাংক কেবল মুনাফা অর্জনের জন্য কাজ করে না; সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর ভাষায়, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে বগুড়া জেলার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হলো। ভবিষ্যতে অন্যান্য জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝেও কৃষি উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
চেয়ারম্যান আরও জানান, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের সুবিধা বাড়ানো এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণেও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকের। ফলে সহায়তা শুধু উপকরণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, উৎপাদনের পরের ধাপগুলোতেও কৃষকের পাশে থাকার কথা বলা হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে চলেছে। এই বিতরণ কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
স্থানীয় কৃষকদের জন্য এমন সহায়তা এমন এক সময়ে এল, যখন সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম তাদের উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশ। তিন হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হওয়ায় বাগবাড়ী, পদ্মপাড়া ও মহাস্থানগড় এলাকার আসন্ন মৌসুমের আবাদে এর প্রভাব পড়বে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
এখন দেখার বিষয়, ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী এই কর্মসূচি অন্য জেলাগুলোতেও সম্প্রসারিত হয় কি না এবং সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তার পরিকল্পনাগুলো কবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়।


