আমেরিকানদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান, সতর্ক করলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান
ইরান মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে আমেরিকানদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো একটি মেমোতে ক্লেটন বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি যে, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মেমোটির ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি এখন আর সাধারণ সতর্কতার পর্যায়ে নেই।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে প্রথম উঠে আসা ওই মেমোতে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কিছু দেশে বেশ অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই মূল্যায়নই ওয়াশিংটনের উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে উঠেছে।
জর্ডান, লেবানন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে কর্মী সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই মেমোটি সামনে আসে। দুটি সিদ্ধান্তের সময়গত মিল থেকে বোঝা যায়, হুমকির মূল্যায়নকে প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এপির সঙ্গে কথা বলা তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আসা হুমকিগুলোর কারণেই এই কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোর অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারকে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অর্থাৎ কর্মী কমানোর পদক্ষেপ শুধু চারটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
চলতি মাসে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি আরবে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি।
ক্লেটন তার মেমোতে প্রস্তাব দিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের যতটা সম্ভব গোপনীয়তার স্তর কমিয়ে আনা হোক, যাতে রুবিও সেগুলো পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে শেয়ার করতে পারেন। সতর্কতা যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছে দ্রুত পৌঁছায়, সেটাই এই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যে, মধ্যপ্রাচ্য ও আরও কয়েকটি দেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের ওপর যে হুমকি রয়েছে, তা ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মার্কিন সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সহযোগীরা নিয়মিত ব্রিফিং পাচ্ছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্লেষকরা রাষ্ট্রদূতসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর সম্ভাব্য হুমকি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যগুলো খতিয়ে দেখছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের এজেন্ট বা অপারেটিভ থাকতে পারে এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্থানও তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে। ফলে হুমকির ভৌগোলিক পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিস্তৃত বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অন্য একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতা সীমিত এবং ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের প্রকৃত সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। এখন দেখার বিষয়, এই সতর্কতার পর যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা ও কর্মী বিন্যাসে আরও কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।






