পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশে ঢুকে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে, বিজিবির কড়া প্রতিবাদ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি (প্রটেস্ট নোট) পাঠিয়েছে।
তবে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। দুই বাহিনীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ৮৩৭ নম্বর মূল সীমান্ত পিলারের ৪ নম্বর উপ-পিলারের কাছে সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু তুলছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক। প্রতিদিনের মতোই তারা নদীতে কাজ করছিলেন।
এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ী ক্যাম্পের ১০ থেকে ১২ জনের একটি টহল দল শূন্যরেখা পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিএসএফ সদস্যরা নদীতে নেমে শ্রমিকদের মারধরের চেষ্টা করেন।
শ্রমিকদের চিৎকারে স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিএসএফ সদস্যরা একটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান। খবর পেয়ে বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কারিমুল ইসলাম বলেন, “ভয় দেখানোর জন্য বিএসএফ একটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠকে বিএসএফের প্রতিনিধি দল সীমান্ত অতিক্রম এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সীমান্তে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সানিয়াজান নদী থেকে পাথর ও বালু তোলা এলাকার অনেক মানুষের জীবিকার উৎস, ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সীমান্তবাসীর আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।
এখন দেখার বিষয়, বিজিবির প্রতিবাদলিপির জবাবে বিএসএফ কী ব্যাখ্যা দেয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই পক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।






