আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নয়, আধিপত্যবাদের পক্ষের শক্তি: এ টি এম আজহার
আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নয়, বরং আধিপত্যবাদের স্বপক্ষের শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর কাঁটাবন মসজিদে এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বইঠা হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নিহতদের স্মরণ করা হয় এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
আজহারুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি তারাই, যারা শত জুলুম-নির্যাতনের পরও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। তাঁর ভাষায়, দেশের সংকটকালে জনগণকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রেখে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা স্বেচ্ছায় নির্বাসনে লন্ডন বা দিল্লি চলে যাননি। যারা দেশ ছেড়ে নিজেদের প্রভুর দেশ দিল্লি আর লন্ডন চলে যায়, তারা কখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হতে পারে না, দেশপ্রেমিকও হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতার অভিযোগ, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মূলত আধিপত্যবাদী শক্তির সহযোগিতায় জামায়াত-শিবিরকে নিঃশেষ করতে ওই হামলা চালিয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার বিচার না হলে দেশে আবারও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চক্রান্তে লিপ্ত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, দ্রুত ওই ঘটনায় করা মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে হবে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ সতর্ক করে বলেন, বিচার শুরু না হলে জাতি বুঝে নেবে, বিএনপি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার না করার নিশ্চয়তা দিয়ে আধিপত্যবাদের সঙ্গে আঁতাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে। তাঁর এই বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও আব্দুস সবুর ফকির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানীসহ অনেকে। বক্তারা ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। প্রতি বছর এই দিনটিকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে এবং ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।
এবারের অনুষ্ঠানেও সেই দাবিই নতুন করে সামনে এল। বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, দলটি ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরে রাখতে চায়।
অনুষ্ঠান শেষে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এখন দেখার বিষয়, জামায়াতের তোলা বিচারের দাবির বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়। ২৮ অক্টোবরের মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরুর কোনো উদ্যোগ আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনের।




