বিদেশ পাঠানোর নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও ‘দালাল’, স্বপ্ন ভেঙে পথে বসছেন ভুক্তভোগীরা
বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন এক ‘দালাল’। বিদেশযাত্রার স্বপ্নে জমানো টাকা ও ঋণের অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা — এখন সেই টাকাও নেই, বিদেশযাত্রাও অনিশ্চিত; অভিযুক্তের হদিস মিলছে না।
ঘটনাটি বাংলাদেশে বিদেশগমনকে ঘিরে প্রতারণার পুরোনো ও বেদনাদায়ক বাস্তবতাকে আবার সামনে এনে দিল। ভালো আয়ের আশায় বিদেশ যেতে চাওয়া মানুষদের লক্ষ্য করে দালালচক্রের টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয় — তবে এবারের অঙ্কটি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, যা এই প্রতারণার ভয়াবহ মাত্রা বুঝিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই সাধারণত নিজের জমি-জমা বিক্রি করে, আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার নিয়ে কিংবা চড়া সুদে ঋণ করে বিদেশযাত্রার টাকা জোগাড় করেন। সেই টাকা নিয়ে দালাল উধাও হয়ে গেলে শুধু স্বপ্নই ভাঙে না — ঋণের বোঝা আর পারিবারিক সংকট একসঙ্গে নেমে আসে তাদের জীবনে।
প্রতিশ্রুতি ছিল বিদেশে চাকরি ও যাত্রার ব্যবস্থা করে দেওয়ার। সেই প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করেই একে একে টাকা তুলে দিয়েছিলেন বিদেশগামীরা। কিন্তু যাত্রার কোনো ব্যবস্থা না করে, কোনো হিসাব না দিয়েই একপর্যায়ে গা-ঢাকা দেন অভিযুক্ত দালাল।
প্রায় পাঁচ কোটি টাকার এই প্রতারণা একটি বড় প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে — এত বড় অঙ্কের লেনদেন কীভাবে অনানুষ্ঠানিক পথে, বৈধ কাগজপত্র ও যাচাই ছাড়াই ঘটতে পারল। প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন, লাইসেন্সবিহীন দালালের মাধ্যমে বিদেশযাত্রা মানেই প্রতারণার ঝুঁকি মাথায় নেওয়া।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখো মানুষ কাজের খোঁজে বিদেশে যান, আর এই বিশাল চাহিদার সুযোগ নেয় প্রতারকচক্র। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরে গিয়ে কম খরচে বা দ্রুত পাঠানোর লোভনীয় প্রস্তাবই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতারণার ফাঁদ হয়ে ওঠে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ পলাতক এই দালালকে খুঁজে বের করা এবং হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা। ভুক্তভোগীদের একমাত্র ভরসা এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া — টাকা ফেরত পাওয়ার লড়াইটা তাদের জন্য দীর্ঘ হতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি এমন ঘটনার পরই সচেতনতার কথা ওঠে, কিন্তু প্রতারণা থামে না। যাচাই ছাড়া টাকা দেওয়ার প্রবণতা, বৈধ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি আর দ্রুত বিদেশ যাওয়ার তাড়া — এই তিনের সুযোগই নেয় দালালচক্র।
ভুক্তভোগীদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত আইনের আশ্রয় নেওয়া ও লেনদেনের সব প্রমাণ সংরক্ষণ করা। একই সঙ্গে এলাকায় আর কেউ একই দালালের কাছে টাকা দিয়েছেন কি না, তা খুঁজে বের করাও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ঘটনাটি বিদেশগামীদের জন্য আবারও কঠিন সতর্কবার্তা — যাওয়ার আগে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করুন, সব লেনদেন ব্যাংক বা আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে করুন, আর লাইসেন্সবিহীন দালালের মিষ্টি কথায় জমানো টাকা তুলে দেবেন না। পাঁচ কোটি টাকার এই প্রতারণা সেই সতর্কতার মূল্য আবার প্রমাণ করে দিল।


