কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহের অভিযানে ১৫ লাখ টাকার বেশি চোরাই মাল জব্দ, আটক দুই চোরাকারবারি
কুড়িগ্রামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে এক সপ্তাহে ১৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানকৃত মালামাল জব্দ হয়েছে। কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন ২২ বিজিবির এই অভিযানে ভারতীয় মদ, ইয়াবা, কারেন্ট জাল, ওষুধ, কসমেটিকস ও প্যান্ট পিসসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে দুই চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৯১৪ টাকা। এক সপ্তাহ ধরে চলা বিশেষ অভিযানে পর্যায়ক্রমে এসব মালামাল জব্দ করা হয় বলে বিজিবি জানিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ঠেকাতে পরিচালিত ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে।
গ্রেপ্তার দুজনের একজন হাফিজুর রহমান। তিনি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। অভিযানে তাকে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়।
অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি নাসির উদ্দিন (৪৫)। তিনি একই উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের ওসমান গনির ছেলে। দুজনকেই বিজিবির বিশেষ অভিযানের সময় আটক করা হয়েছে।
জব্দ তালিকায় ভারতীয় মদের পাশাপাশি ইয়াবাও রয়েছে। মাদক ও মদ—দুই ধরনের পণ্যই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনার চেষ্টা হচ্ছিল, আর বিজিবির অভিযানে সেই চালানগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে কারেন্ট জাল। অবৈধ এই জাল মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে পরিচিত, আর চোরাচালান হয়ে আসা কারেন্ট জাল জব্দ হওয়ায় সেই ক্ষতির একটি পথও বন্ধ হলো।
এ ছাড়া জব্দ হয়েছে ওষুধ ও কসমেটিকস। অনুমোদনহীন পথে আসা এসব পণ্য বাজারে গেলে ভোক্তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—অভিযানে সেগুলোও আটক করা হয়েছে।
প্যান্ট পিসসহ অন্যান্য চোরাচালানকৃত মালামালও উদ্ধার তালিকায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের অভিযানে জব্দ মালের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য দুটোই ছিল বড়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন ২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক পিএসসি। তিনিই অভিযানের ফল ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছেন।
অধিনায়ক জানান, এই কঠোর নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের এই বিশেষ অভিযানই শেষ নয়—সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা চলমান থাকবে।
কুড়িগ্রাম সীমান্তবর্তী জেলা, আর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ঠেকানো বিজিবির নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। এই অভিযানের জব্দ ও গ্রেপ্তার সেই নিয়মিত কাজেরই বড় একটি ফল।
এখন জব্দ মালামাল ও গ্রেপ্তার দুজনকে নিয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা। বিজিবির পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত থাকার ঘোষণায় সীমান্তের চোরাকারবারিদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট।


