আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা: ঘরে ঘরে ধন-সম্পদের দেবীর আরাধনা
দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার। শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূর্ণিমাকে বলা হয় কোজাগরী, সে জন্যই উৎসবটি কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামে পরিচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সহকারী সেবায়েত রুবেল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নবযুগ ডাইরেক্টরি পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ রোববার সকাল ১১টা ২৭ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে। আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে এই তিথি শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যেই হিন্দু সম্প্রদায় লক্ষ্মীপূজা উদ্যাপন করবে।
শাস্ত্রমতে দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। তিনি উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত। সেই কারণেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী হিসেবে পূজিত হন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পূর্ণিমার এই তিথিতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে পূজা গ্রহণ করতে আসেন। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর এই তিথিতে মন্দিরে ও ঘরে ঘরে বিশেষ আয়োজনে দেবীর আরাধনা করা হয়।
আজ মন্দিরের পাশাপাশি দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পারিবারিক পরিসরে আয়োজিত এই পূজা বাঙালি হিন্দু পরিবারগুলোর একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যেখানে ধন-সমৃদ্ধি ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করা হয়।
পূজা উপলক্ষে প্রধানত নারীরা উপবাসব্রত পালন করবেন। দিনজুড়ে উপবাস থেকে সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনায় অংশ নেওয়ার এই রীতি বহু পরিবারেই প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় আঁকা হবে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা। এই আলপনা দেবীর আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বাড়ির প্রবেশপথ থেকে পূজার আসন পর্যন্ত সেই ছাপ এঁকে দেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় প্রজ্বালন করা হবে প্রদীপ। আলোর এই আয়োজন দেবী লক্ষ্মীর আলো ও উন্নতির প্রতীকী দিকটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়; অন্ধকার সরে গিয়ে ঘরে আলো আসার প্রত্যাশাই এই রীতির মূল ভাবনা।
সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশেই লক্ষ্মীপূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। মন্দিরের বড় আয়োজনের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক এই উদ্যাপনই উৎসবটির প্রধান চরিত্র, যেখানে প্রতিটি পরিবার নিজের মতো করে দেবীর আসন সাজায়।
দুর্গাপূজার বড় উৎসবের পর এই পূজা আসে তুলনামূলক শান্ত ও পারিবারিক আবহে। শারদীয় উৎসবমুখর সময়ের শেষ প্রান্তে কোজাগরী পূর্ণিমার এই আরাধনা হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে তাই বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ক্ষণ।
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী পূজার তিথি থাকছে আগামীকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত। ফলে আজ দিনের বেলা ও সন্ধ্যার পাশাপাশি তিথির সময়সীমার মধ্যে পূজা সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে ভক্তদের জন্য।
সব মিলিয়ে আজকের দিনটি দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ধন-সম্পদ, আলো ও সৌভাগ্যের দেবীর আরাধনার দিন—মন্দিরে ও প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় আলপনা আর প্রদীপের আলোয় উদ্যাপিত হবে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা।



