স্কুল ও মাদরাসার টানা ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, ফের প্রাণ ফিরবে শ্রেণিকক্ষে
দেশের স্কুল ও মাদরাসাগুলোর টানা ছুটি শেষ হচ্ছে আজ। ছুটির এই পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবার নিয়মিত পাঠদান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, আর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দৈনন্দিন রুটিনেও ফিরছে আগের ছন্দ।
টানা ছুটি মানেই শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ার টেবিল থেকে কিছুটা দূরে থাকা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর নিজের মতো করে দিন গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। সেই বিরতি শেষে আবার ব্যাগ গুছিয়ে প্রতিষ্ঠানের পথে বের হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি এখন ঘরে ঘরে।
অভিভাবকদের জন্য ছুটি শেষ হওয়ার এই সময়টা একই সঙ্গে স্বস্তির ও ব্যস্ততার। স্বস্তি এই কারণে যে সন্তানের পড়াশোনা আবার নিয়মিত কাঠামোর মধ্যে ফিরছে, আর ব্যস্ততা তৈরি হয় যাতায়াত, টিফিন, বইখাতা আর সময়মতো ঘুমের রুটিন নতুন করে ঠিক করা নিয়ে।
শিক্ষকদের জন্যও এই ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির আগে যেখানে পাঠ শেষ হয়েছিল, সেখান থেকে আবার এগিয়ে নেওয়া, অসমাপ্ত অধ্যায়গুলো গুছিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের সামনে প্রথম কাজ।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম কয়েক দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণত এক ধরনের ধীরগতি দেখা যায়। ঘুমের সময় বদলে যাওয়া, পড়ার অভ্যাসে ছেদ পড়া এবং খেলাধুলা ও অবসরের মেজাজ থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।
স্কুল ও মাদরাসা — দুই ধারার প্রতিষ্ঠানেই একই সঙ্গে ছুটি শেষ হচ্ছে বলে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে এই প্রত্যাবর্তন বড় আকারের। ফলে সড়কে সকালের যান চলাচল থেকে শুরু করে গণপরিবহনের চাপ পর্যন্ত নানা জায়গায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠান খোলার দিনগুলোতে সকালের দিকে যানজট বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। তাই অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানকে নিয়ে কিছুটা আগে বের হওয়ার পরিকল্পনা করেন, যাতে সময়মতো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো যায়।
ছুটি শেষ হওয়ার খবরটি শিক্ষার্থীদের কারও কারও কাছে আনন্দের, কারও কাছে কিছুটা মনখারাপেরও। তবে বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়া, শ্রেণিকক্ষের আড্ডা আর নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরার আকর্ষণ সেই মনখারাপ অনেকটাই কাটিয়ে দেয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছুটি-পরবর্তী পাঠদানসূচি বা কোনো বিশেষ নির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানভেদে নিজ নিজ নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেই ধারণা করা যায়।
সব মিলিয়ে আজকের দিনটি দেশের লাখো শিক্ষার্থীর জন্য একটা পালাবদলের দিন — ছুটির অবসর পেছনে ফেলে আবার নিয়মিত পড়াশোনার জগতে ফেরার দিন। আগামী দিনগুলোতে শ্রেণিকক্ষগুলো আবার মুখর হয়ে উঠবে বলেই প্রত্যাশা সবার।






