মঞ্চে গান চলার মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো শিল্পা রাওয়ের মাইক, ক্ষোভে সরব ভক্তরা, পরে ক্ষমা চাইলেন আয়োজকেরা

মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঝপথেই বন্ধ করে দেওয়া হলো জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় গায়িকা শিল্পা রাওয়ের মাইক। আয়োজকদের এই অব্যবস্থাপনা ও শিল্পীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন অনুরাগীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৪ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘বলিউড মিউজিক প্রজেক্ট’-এর দশম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে। বড় আয়োজনের এই মঞ্চেই গান গাইছিলেন শিল্পা রাও।
শুধু মাইক বন্ধ করাই নয়, শিল্পা দর্শকদের উদ্দেশে কথা শেষ করার আগেই মঞ্চে শুরু হয়ে যায় পরবর্তী শিল্পীর অনুষ্ঠান। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন গায়িকা।
ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন শিল্পা। তিনি লেখেন, ‘মুম্বাই, আজ রাতে আমার হৃদয়ের একটা ছোট্ট অংশ ভেঙে গিয়েছে। এত সুন্দর একটা মুহূর্ত এভাবে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এটা ভীষণ কষ্টের।’
তবে গান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও দর্শকেরা তাঁর নাম ধরে ডাকতে থাকেন এবং সমর্থন জানান। সেই প্রসঙ্গে শিল্পা লেখেন, ‘কিন্তু গান থেমে গেলেও তোমরা থামোনি। তোমাদের কণ্ঠে আমার নাম ধরে ডাকার মধ্যে যে ভালোবাসা ছিল, আমি সবটাই অনুভব করতে পেরেছি। আজ রাতের আমাদের গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে গেল। আমি কথা দিচ্ছি, আবার ফিরে আসব। মুম্বাই, তোমাদের ভালোবাসি। চিরকাল, চিরদিন।’
শিল্পার পোস্টের পর শনিবার গভীর রাতে অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা তাঁদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে শিল্পীর পারফরম্যান্স আচমকা শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি শিল্পা রাওয়ের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। বলিউড মিউজিক প্রজেক্টে আমাদের লক্ষ্য সব সময় শিল্পী ও তাঁদের অনুরাগীদের জন্য এক অসাধারণ লাইভ মিউজিকের অভিজ্ঞতা তৈরি করা।’
আয়োজকেরা আরও বলেন, ‘আমরা শিল্পা রাওকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখি। তাঁর অসাধারণ অবদান, অনন্য শিল্পীসত্তা এবং সংগীতজগতে তাঁর গভীর প্রভাবকে আমরা সম্মান করি। আমাদের অনুষ্ঠানে তাঁকে পেয়ে আমরা সত্যিই সম্মানিত।’
আকস্মিক সমাপ্তির ব্যাখ্যায় আয়োজকেরা বলেন, একাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে বড় মাপের সংগীত উৎসব পরিচালনা করা জটিল কাজ। আগের শিল্পীদের পারফরম্যান্স নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়ে গেলে পরবর্তী অনুষ্ঠানগুলোর সময়সূচিতে সমস্যা তৈরি হয়।
তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা এবং অনুষ্ঠানস্থলের নির্ধারিত সময়সীমা বা কারফিউয়ের নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সন্ধ্যা যত এগিয়েছে, সময়সূচিতে জমতে থাকা বিলম্বের কারণে শিল্পার পারফরম্যান্স আগেভাগেই শেষ করতে হয়েছে।
২০০৭ সালে ‘আনওয়ার’ ছবির ‘তোসে নায়না’ গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন শিল্পা রাও। এরপর ‘খোদা জানে’, ‘ঘুংরু’, ‘বুল্লেয়া’ এবং ‘জাওয়ান’ ছবির ‘চালেয়া’-র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
‘চালেয়া’ গানের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এমন একজন শিল্পীর মঞ্চের অভিজ্ঞতা ঘিরেই এখন আলোচনা চলছে—আয়োজকদের ব্যাখ্যা মেনে নিয়েও ভক্তদের অনেকের প্রশ্ন, সময় ব্যবস্থাপনার দায় কেন শিল্পীর মাইক বন্ধ করে মেটাতে হলো।




