গাড়িতে গুলির ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে মামলা করলেন আসিফ আকবর, সিসিটিভি ধরে হামলাকারী শনাক্তের চেষ্টা
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেসগামী সড়কের পাশে বিশাল সেন্টার মার্কেটের সামনে ফুটপাতে পার্ক করা আসিফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, মগবাজার থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নেমে আসিফের গাড়ির পেছনের ডান পাশের জানালার কাচ লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলি চালিয়েই হামলাকারী আবার অটোরিকশায় উঠে মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান।
ঘটনার সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না। তিনি তখন বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে (স্টুডিওতে) অবস্থান করছিলেন। গাড়ির চালকও সে সময় সেখানে ছিলেন না। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে গুলির আঘাতে গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
আসিফ আকবর বলেন, সাধারণত তিনি যে সময়ে অফিস থেকে বের হন, হামলাকারীরা সম্ভবত সেই সময়টি জেনেই তাকে লক্ষ্য করেছিল। তবে ওই সময় ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কারণে অফিস থেকে নামতে কিছুটা দেরি হওয়ায় তিনি অলৌকিকভাবে রক্ষা পান।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না বলেও জানিয়েছেন আসিফ আকবর। ফলে হামলার উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর পরিচয় এখনো রহস্যেই রয়ে গেছে।
পুলিশ বলছে, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশা ও হামলাকারীকে শনাক্ত করাই এখন তদন্তের প্রধান কাজ। ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিরোধ থেকে এই হামলা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও তদন্ত চলছে।
মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি এখন আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর্যায়ে গেল। হামলাকারী শনাক্ত হলে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন; ততদিন পর্যন্ত ভোররাতের এই গুলির ঘটনা ঘিরে জল্পনা থামছে না।






