ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ২৭ অক্টোবর থেকে নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিল ইসি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনাটি উপনির্বাচনের ঠিক আগের ও পরের কয়েকটি দিনকে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিনকে মাঝখানে রেখে তার দুই দিন আগে থেকে ভোটের পরদিন বিকেল পর্যন্ত সময়টিকে এই বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ এই সময়ে নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। অর্থাৎ এই তিন শ্রেণির বাইরে থাকা বহিরাগতদের অবস্থানই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের উপস্থিতি যাতে ভোটের পরিবেশে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফলে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশের ওপরই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ছে।
ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনি এলাকায় এখন এই নির্দেশনাই সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিষয়। ২৭ অক্টোবর সকাল থেকে কারা এলাকায় থাকতে পারবেন আর কারা পারবেন না, তা এই চিঠির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
নির্বাচনি কাজে যুক্ত ব্যক্তি ও ইসির অনুমতিপ্রাপ্তদের জন্য ছাড় থাকায় ভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কাজ এই নিষেধাজ্ঞায় ব্যাহত হওয়ার কথা নয়। একইভাবে এলাকার নিজস্ব বাসিন্দা ও ভোটারদের স্বাভাবিক অবস্থানেও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
২৯ অক্টোবরের ভোট শেষ হওয়ার পরও ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ভোট-পরবর্তী সময়টুকুও শান্ত রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিতই এতে পাওয়া যায়।
এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে এবং উপনির্বাচন কতটা প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।






