নাইজারে সেনা পাঠাতে সম্মতি দিল আলজেরিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষের ভোট বাকি
আলজেরিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সর্বসম্মতভাবে প্রতিবেশী দেশ নাইজারে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই ভোট অনুষ্ঠিত হলো। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হতে এখন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
আলজেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট বিদেশে সামরিক ইউনিট পাঠাতে পারেন, তবে সেজন্য পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন লাগে। সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রোববার জরুরি অধিবেশনে বসে উচ্চকক্ষ কাউন্সিল অব দ্য নেশন এবং সেনা মোতায়েনের পক্ষে ভোট দেয়।
আলজেরিয়ার জনপ্রিয় সংবাদপত্র এল খাবারের বরাতে জানা গেছে, নিম্নকক্ষ পিপলস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এদিন সন্ধ্যার পর পৃথক অধিবেশনে বসে এ বিষয়ে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। নিম্নকক্ষও অনুমোদন দিলে প্রস্তাবিত মোতায়েন চূড়ান্ত রূপ পাবে।
অনুমোদন মিললে এটি হবে ১৯৭৩ সালের পর আলজেরিয়ার সীমানার বাইরে প্রথম সামরিক মিশন। ১৯৭৩ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের যুদ্ধ হয়েছিল, যা আরবদের কাছে অক্টোবর যুদ্ধ এবং ইসরায়েলিদের কাছে ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
ধারণা করা হচ্ছে, নাইজারে মোতায়েন করা আলজেরীয় সামরিক ইউনিটগুলোর দায়িত্ব হবে সে দেশের তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মোতায়েনের আকার, সময়সূচি ও মেয়াদ নিয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই ভোটের আগে গত সপ্তাহে নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সালিফু মোদি আলজেরিয়া সফর করেন। সফরে তিনি আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমজিদ তেব্বুন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল সাঈদ চানেগ্রিহার সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই সফরেই দুই দেশ একটি সামরিক সহযোগিতা প্রটোকল সই করে। তবে সেই প্রটোকলের বিস্তারিত শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। পার্লামেন্টের ভোটকে সেই সামরিক সহযোগিতা কাঠামোরই ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট তেব্বুন নিশ্চিত করেছিলেন, আগস্টের শেষ দিকে আলজেরিয়া নাইজারে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। রাজধানী নিয়ামেকে কাঁপিয়ে দেওয়া একটি কথিত অভ্যুত্থানচেষ্টা ঠেকাতে সহায়তা করতেই সেগুলো পাঠানো হয়েছিল বলে তিনি জানান।
আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, অস্থিরতার পর তারা নাইজারে বিমান পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমানের টহল নিয়ামে বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং তাদের সঙ্গে একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৩০ আগস্ট দেওয়া বিবৃতিতে বলেছিল, নাইজার কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই বিমানগুলো পাঠানো হয়েছিল। বিবৃতিতে এই মিশনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছিল ‘ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র নাইজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মোকাবিলায় নাইজার সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেওয়া’ হিসেবে।
গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই আলজেরিয়া ও নাইজারের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য ঘনিষ্ঠতা এসেছে। তার আগে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের একটি সময় গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টের এই ভোটকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এখন সবার নজর নিম্নকক্ষের অধিবেশনের দিকে। সেখানেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হলে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো আলজেরীয় সেনারা দেশের বাইরে কোনো মিশনে যাবেন।


