সার্বিয়ায় ভোট শেষ: ১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ উপস্থিতি, অনিয়মের অভিযোগে উত্তেজনা
সার্বিয়ার আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় রাত আটটায় (গ্রিনিচ মান সময় ১৯:০০) ভোট শেষ হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফলাফলের প্রাথমিক আভাস পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় ১৭:০০ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কমিশনের ভাষ্যে, ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এটাই সর্বোচ্চ উপস্থিতি।
এই নির্বাচনে ঠিক হবে, ২০১২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কি না। দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে গড়ে ওঠা একটি ছাত্র-সমর্থিত আন্দোলন।
তবে বেশি উপস্থিতি কোন পক্ষের পক্ষে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়েলেনা ভাসিলিয়েভিচ শুক্রবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এসএনএসের একটি নির্ভরযোগ্য ভোটারভিত্তি রয়েছে; অন্যদিকে ছাত্রদের প্রয়োজন ছিল সাধারণত ভোট না দেওয়া মানুষদের ভোটকেন্দ্রে আনা।
ভোটের দিন ভীতি প্রদর্শন ও পদ্ধতিগত ত্রুটির অভিযোগও উঠেছে। স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ, ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিআরটিএ) জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা ৫০০টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে ভোটার বা নির্বাচনকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার কথাও জানিয়েছে।
আরেক পর্যবেক্ষক সংস্থা সেন্টার ফর ফ্রি ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিইএসআইডি) স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা (গ্রিনিচ মান সময় ১৬:০০) পর্যন্ত সম্ভাব্য অনিয়মের প্রায় ২৬০টি অভিযোগ পেয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ব্যালটের ছবি তোলা, দলবদ্ধ ভোট দেওয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা।
রাজধানী বেলগ্রেডে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের কাছে দাঙ্গা-হেলমেট ও ঢাল নিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়; আশপাশের সড়ক বন্ধ করে ব্যারিকেড বসানো হয়। শহরের প্রসিকিউটররা রোববার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই নির্বাচনের পেছনে রয়েছে প্রায় দুই বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদে রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে কথিত সরকারি দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। ভুচিচ ও এসএনএস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বিক্ষোভ থেকে গড়ে ওঠা 'স্টুডেন্ট লিস্ট – স্টুডেন্টস উইন' চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন পেশার প্রার্থী দিয়েছে, যাদের অনেকেরই আগে রাজনীতির অভিজ্ঞতা নেই। আন্দোলনটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে প্রচার চালিয়েছে।




