বিশ্ব অপেরা দিবসে সুরের আয়োজনে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে রোববার ছিল অন্য রকম ভিড়। ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবসে কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছেন, কেউ সঙ্গীদের নিয়ে ছবি তুলেছেন বিশ্বখ্যাত এই স্থাপত্যের সামনে। দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া আর সংগীতের আয়োজনে চেনা অপেরা হাউস সেদিন পেয়েছিল বাড়তি প্রাণ।
সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে পরিবেশিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘গ্রেট অপেরা হিটস’। এতে শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি ও বিজের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন।
পাশাপাশি কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য ‘মাই ফেয়ার লেডি’। ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের বদলে যাওয়ার গল্প নিয়ে সাজানো এই প্রযোজনায় এলাইজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন, আর অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের ভূমিকায় ছিলেন ন্যাথানিয়েল পার্কার।
আয়োজকদের একজন জানান, ব্রডওয়েতে প্রথম মঞ্চস্থের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে এসেছে ‘মাই ফেয়ার লেডি’র এই আয়োজন। প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে জুলি অ্যান্ড্রুজের নির্দেশনায় ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ভিত্তিতে। ‘আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট’ ও ‘উডন্ট ইট বি লাভারলি?’-এর মতো পরিচিত গান রয়েছে এতে। সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
বিশ্বখ্যাত দুই সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মদিন স্মরণে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস পালিত হয়। অপেরা বলতে অনেকের চোখে সিডনি অপেরা হাউসের ছবি ভেসে উঠলেও এই মঞ্চশিল্পের জন্ম ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে।
২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের আলোচনার সূত্র ধরে ২০১৯ সাল থেকে যৌথভাবে দিবসটি পালন শুরু করে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো-আমেরিকা। নতুন দর্শকের কাছে অপেরাকে পৌঁছে দেওয়া এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের মতে, অপেরার গল্পে উঠে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো চেনা অনুভূতি। ভাষা আলাদা হলেও সেই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন নানা দেশের দর্শক, আর অন্যের অনুভূতি বুঝতে ও ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি উদার হতে ভূমিকা রাখতে পারে এই শিল্প।
উদ্যাপনের পাশাপাশি সামনে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যের মানুষদের অনিশ্চয়তার কথাও। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বহু অপেরাশিল্পী ও কলাকুশলী এখনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ায় পারিশ্রমিক না পাওয়া ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। অপেরাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে রোববার সিডনি অপেরা হাউসে কেটেছে এক ব্যস্ত, উৎসবমুখর দিন। মিলনায়তনের ভেতরে পরিবেশনা আর বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়—দুইয়ে মিলে জমে উঠেছিল দিনের আয়োজন।




