কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় কনজারভেটিভদের জয়, নতুন প্রিমিয়ার লর্ন ডোর্কসন

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে আগাম নির্বাচনে কনজারভেটিভরা জয় পেয়েছে, আর প্রদেশটির নতুন প্রিমিয়ার হচ্ছেন লর্ন ডোর্কসন। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম দলটি প্রদেশটিতে ক্ষমতায় এল।
ডোর্কসন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দলের নেতৃত্ব নিয়েছিলেন। সাবেক রোডিও ঘোষক ও সংবাদপত্র প্রকাশক ডোর্কসন প্রথম প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত হন ২০২০ সালে। ৫৮ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই জানিয়েছেন, গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার ফ্লাইটে থাকার সময় তিনি জানতে পারেন, দলীয় সহকর্মীরা তাঁকেই নতুন নেতা হিসেবে চাইছেন।
এর আগে সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ব্রিটিশ কলম্বিয়া কনজারভেটিভদের তৎকালীন নেতা কেরি-লিন ফিন্ডলে পদত্যাগ করেন। সেই কোন্দলে তাঁর ককাসের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছেড়েছিলেন।
বিদায়ী প্রিমিয়ার ডেভিড এবি গত মাসে দুই বছর আগেই আগাম নির্বাচনের ডাক দেন, নিজের দল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) অবস্থান শক্ত করার আশায়। ২০২২ সালে প্রিমিয়ার হওয়া এবি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক আক্রমণ ও প্রদেশটিকে হুমকির মুখে ফেলা ‘ট্রাম্প-ধাঁচের রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রদেশটির একটি ‘ফায়ার ব্রেক’ দরকার।
এবি আরও বলেছিলেন, মাত্র এক আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রতিটি ভোটেই সরকার পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, তাই নীতি দ্রুত পাস করতে তাঁর দলের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শনিবারের ফলাফলে দেখা গেছে, ভোটাররা নতুন কাউকেই চেয়েছিলেন—তাঁর এই বাজি উল্টো ফল দিয়েছে।
প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আইনসভার মোট ৯৩টি আসনের মধ্যে ডোর্কসনের কনজারভেটিভরা ৬৪টি আসনে জয় পেয়েছে, আর এনডিপি পেয়েছে মাত্র ২৭টি আসন।
শনিবার রাতে বিজয় ভাষণে ডোর্কসন বলেন, ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মানুষ পরিশ্রমী ও পথপ্রদর্শক স্বভাবের; তাঁরা প্রদেশটিতে কিছু গড়ার ন্যায্য সুযোগ চান। তাঁর ভাষায়, সেই চেতনার পাশে থাকা একটি সরকারই তাঁদের প্রয়োজন।
ডোর্কসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বন ও খনি অনুমোদন দ্রুত দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জট ‘আগে কখনো হয়নি এমনভাবে’ কাটবেন এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন তিন গুণ করবেন।
পরাজয় মেনে নেওয়ার ভাষণে এবি প্রাদেশিক এনডিপির নেতার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং বলেন, এই ফলাফলের পূর্ণ দায় তিনি নিজে নিচ্ছেন।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এই পালাবদল কানাডার প্রাদেশিক রাজনীতিতে সাম্প্রতিক আরেকটি বড় পরিবর্তনের পরপরই এল। এই মাসের শুরুর দিকে কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে সার্বভৌমত্ববাদী পার্টি কুইবেকোয়া সংখ্যালঘু সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট আসন পেয়েছে, যা কানাডার ঐক্যের সামনে নতুন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।




