অস্ট্রেলিয়ায় মন্ত্রীর গাড়িতে ‘ইঁদুর’ খোদাই করা গুলি, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পল এডব্রুক

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জরুরি সেবা মন্ত্রী পল এডব্রুকের গাড়ির ওপর একটি গুলি রেখে যাওয়া হয়েছে, যাতে ‘RAT’ (ইঁদুর) শব্দ ও তার পুরোনো ফায়ারফাইটার নম্বর খোদাই করা ছিল। এই ঘটনায় তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে গাড়ির কাছে ফিরে এডব্রুক গাড়ির বনেটের ওপর গুলিটি দেখতে পান। সোমবার হেরাল্ড সান পত্রিকা প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।
এবিসি রেডিও মেলবোর্নকে এডব্রুক বলেন, আবিষ্কারটি দেখে তিনি ‘হতবাক’ ও ‘আতঙ্কিত’ হয়েছিলেন, বিশেষ করে গত সপ্তাহে ফেডারেল এমপি হেলেন হেইনসের ওপর কথিত হামলার পর। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানরা এই গাড়ি চালায়, আর তখন মনে হয়—আমাকে কি অনুসরণ করা হচ্ছে? কে জানে আমি এখানে আছি? আমাকে কি নজরদারিতে রাখা হয়েছে?’ তার ভাষায়, ‘এটা সূক্ষ্ম কিছু নয়—এটা মৃত্যুর হুমকি, আমার ফায়ারফাইটার আইডি নম্বর ও “ইঁদুর” শব্দ খোদাই করা একটি গুলি।’
এডব্রুক বলেন, তার আইডি নম্বরটি ‘একজন ফায়ারফাইটারের জন্য খুবই নির্দিষ্ট’ এবং সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের কাছ থেকে তিনি ‘আক্রমণাত্মক হুমকি’ ও গালাগাল পাচ্ছেন, তারা ইউনাইটেড ফায়ারফাইটার্স ইউনিয়নের সদস্য।
ইউনিয়নটি ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে মামলা করেছে ফায়ারফাইটারদের এন্টারপ্রাইজ বার্গেইনিং চুক্তি নিয়ে; এডব্রুক যে সংস্থাটির তদারকি করেন সেটি হলো ফায়ার রেসকিউ ভিক্টোরিয়া। ২০২১ সাল থেকে এই চুক্তি নিয়ে বিরোধের মীমাংসা হয়নি।
ইউনিয়নটি রাজ্যের লেবার সরকারের বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ব্যয়বহুল বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালানো ও ফায়ারফাইটারদের দিয়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করানোর অঙ্গীকার করেছে, এবং আগামী মাসের ভোটে লেবার পার্টিকে সবার শেষে রাখতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রচারসামগ্রী অনুমোদন করেছে। ভিক্টোরিয়ান লেবার পার্টি থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে সদস্যদের সভা করার পরিকল্পনাও করছে ইউনিয়নটি।
সোমবার গুলির ঘটনা নিয়ে এডব্রুক বলেন, ‘এতে আমি ভয় পাব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি আপনার পরিবারের কথা ভাবেন, অন্য এমপিদের কথা ভাবেন, আর গত সপ্তাহে ওয়াঙ্গারাট্টায় যা ঘটেছে তার কথা ভাবেন।’
তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়ার গণতন্ত্রের বড় দিক হলো মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কথা বলতে পারে, রাজনীতিতে মতভেদ থাকলেও আলোচনা করা যায়। ‘কিন্তু এ ধরনের কাজ চলতে থাকলে আমরা তা হারাতে শুরু করব,’ বলেন তিনি; এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাড়াতে হতে পারে এবং এমপিরা জনগণের কাছে কম পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশঙ্কা করেন।



