ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার মেইল ব্যালট আলাদা রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদনে প্রশ্ন আপিল আদালতের
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন অনাগরিকদের কাছে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার মেইল ব্যালট আলাদা করে রাখতে রাজ্যকে বাধ্য করার ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদন নিয়ে রোববার প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল। নবম সার্কিট আপিল আদালতের এই প্যানেল সরকারের আইনি যুক্তি এবং এই পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের এখতিয়ার—দুটো বিষয় নিয়েই প্রশ্ন করেছে; রায় এখনো অপেক্ষমাণ।
শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসন ও ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যুক্তি উপস্থাপন করেন। বিচার বিভাগ চায়, তাদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো যোগ্যতা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য ভোটের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত না করে আলাদা রাখা হোক।
ফেডারেল সরকার প্যানেলকে অবিলম্বে রায় দিতে বলেছে। তাদের যুক্তি, বিরোধটি অমীমাংসিত থাকলে প্রতিদিন ক্যালিফোর্নিয়ায় লাখ লাখ ব্যালট গণনার আওতায় আসতে পারে।
ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারক মার্ক বেনেট প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসনের চাওয়া এই নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের নির্বাচন ধারার সঙ্গে মেলানো যায় কি না। এই ধারা অনুযায়ী কংগ্রেস নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য আইনসভার হাতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে। বিচার বিভাগের আইনজীবী ম্যাথু ডনেলিকে উদ্দেশ করে বেনেট বলেন, প্রশাসন এমন একটি নিষেধাজ্ঞা চাইছে, যা ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভার ওই ধারার আওতায় প্রণীত আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তাঁর মনে হচ্ছে।
প্যানেল এ-ও প্রশ্ন করেছে, এই পর্যায়ে নবম সার্কিটের হস্তক্ষেপের এখতিয়ার আছে কি না। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিয়োগ দেওয়া বিচারক গ্যাব্রিয়েল সানচেজ বলেন, জেলা আদালত এখনো বিচার বিভাগের আবেদনের রায় দেয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ডেভিড কার্টারের সামনে মঙ্গলবার শুনানি নির্ধারিত থাকতে নবম সার্কিটের এখানে মত দেওয়ার কারণ কী।
ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া আরেক বিচারক প্যাট্রিক বুমাটে বরং সরকারের অনাগরিক ভোটের আশঙ্কার দিকে বেশি মনোযোগ দেন এবং সন্দেহভাজন অযোগ্য ভোটারদের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিচার বিভাগ আপিল আদালতে জরুরি প্রতিকার চেয়েছে, কারণ তারা যে সময়সীমা চেয়েছিল, তার মধ্যে বিচারক কার্টার রায় দেননি। ক্যালিফোর্নিয়া বলেছে, নিম্ন আদালত রায় দেওয়ার আগে নবম সার্কিটের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বিচার বিভাগ মামলাটি প্রথম দায়ের করে ১৫ অক্টোবর, ক্যালিফোর্নিয়া ব্যালট পাঠানো শুরু করার প্রায় দুই সপ্তাহ পর।
যুক্তি উপস্থাপনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা অব্যবস্থাপনার ইতিহাসের অভিযোগ তোলে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের অন্তর্নিহিত তথ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে, অনাগরিক ভোটের বিরুদ্ধে রাজ্যের শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেডারেল সরকারের তালিকার একটি অংশের প্রাথমিক পর্যালোচনায় স্পষ্ট অসঙ্গতি পাওয়া গেছে—এর মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও আছেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন অথবা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিতই নন।
এই সপ্তাহান্তে দাখিল করা এক আবেদনে ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তি দিয়েছে, ফেডারেল সরকারের তত্ত্ব সংবিধানকে উল্টে দেবে। রাজ্য বলেছে, নির্বাচন পরিচালনার নিয়মের ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্বাচনের সময়, স্থান বা পদ্ধতি নিয়ে আইন পাস না করলে ফেডারেল সরকারের রাজ্যগুলোর কাজে হস্তক্ষেপের কোনো ক্ষমতা নেই।
মামলায় উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যে ৩০ লাখের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতেই ৫ লাখের বেশি। বিচার বিভাগ তার আবেদনের জরুরিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছে, রায় না হলে প্রতিদিন আরও ব্যালট নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার আগেই প্রক্রিয়াজাত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
বিচারক বেনেট বলেছেন, তিন বিচারকের প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব রায় দেওয়ার চেষ্টা করবে।



