ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় মার্কেটের ১৫ দোকান দখলের অভিযোগ, আদালতে মামলা ও ১৪৪ ধারা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় একটি মার্কেটের অর্ধেক দখলের অভিযোগ উঠেছে। মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টুর অভিযোগ, তাঁর ভাড়াটিয়া আসাদুর জামান সনেট কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ১৫টি দোকান দখল করে সেখান থেকে ভাড়া তুলছেন এবং দখল করা অংশের নাম দিয়েছেন আসাদুর জামান প্লাজা।
অভিযুক্ত সনেট কালীগঞ্জের বাদেডিহি গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের ভাতিজা।
এলাকাবাসী জানান, ২০১১ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার রেললাইনের পাশে একটি মার্কেট গড়ে তোলেন আছাদুজ্জামান মিন্টু। সেই মার্কেটের নাম দেন মৃধা শাহাজাহান প্লাজা। উপজেলার মিঠাপুকুর মৌজার ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪ ও ৫২৫ নম্বর দাগের পৈতৃক জমি ১৫ শতক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে বাণিজ্যিক রাজস্ব দিয়ে ৯৬০ বর্গফুট জমিতে এই মার্কেট নির্মাণ করেন তিনি। মার্কেটটিতে সর্বমোট ৩০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ের জমিতে রয়েছে টিনশেডের ছয়টি দোকান।
২০১৮ সালে মার্কেটের পশ্চিম সারির ৩ নম্বর দোকান ভাড়া নেন সনেট। পাঁচ বছরের চুক্তি শেষ হলে ২০২৩ সালের ১ জুন আবার চুক্তি নবায়ন করেন তিনি। মালিকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি মার্কেট দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৫টি দোকান দখল করে এক মাসের ভাড়া আদায় করেছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মার্কেট দখল নেওয়ার জন্য আসাদুর জামান সনেট ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট ২৩ হাজার ৭৬০ টাকা জমা দিয়ে মিঠাপুকুর মৌজার ৯৩/৯৫ দাগের ৬০০ বর্গফুট জমি রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ডিসিআর কেটে আনেন। এতে স্বাক্ষর করেন পাকশীর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
এরপর মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু ১৫টি দোকান দখলের পর পাকশীতে যোগাযোগ করেন। পরে এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সনেটের দেওয়া ৬০০ বর্গফুট জমির বরাদ্দ বাতিল করেন ওই কর্মকর্তা। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, সনেট রেল প্রশাসনের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে ৬০০ বর্গফুট ভূমির বাণিজ্যিক রাজস্ব প্রদান বা ক্ষতিপূরণ নোটিশ সংগ্রহ করেছেন এবং প্রকৃতপক্ষে ওই জায়গায় তাঁর দখল ও কোনো স্থাপনা নেই।
আছাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সনেট তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ার কারণে মার্কেটের ১৫টি দোকান দখল করেছেন। চাচা বিএনপি নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি তাঁর মার্কেট দখল করেছেন এবং নিজের স্থাপনা দখল করে নাম দিয়েছেন আসাদুর জামান প্লাজা।
মৃধা শাহজাহান প্লাজার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসাদুর জামান সনেট এই মার্কেটের ভাড়াটিয়া, তাঁদের মতো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে শোনা যায়, তিনি ১৫টি দোকানের মালিক হয়ে গেছেন এবং এখন থেকে সনেটের কাছে ভাড়া দিতে হবে, নাহলে দোকান ছেড়ে দিতে হবে। এই ভয়ে তিনি সনেটের কাছে সেপ্টেম্বর মাসের ভাড়া দিয়েছেন।
মিন্টু আরও বলেন, তাঁর সব কাগজপত্র বৈধ। রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত আছে ছয়টি দোকান। কিন্তু সনেট তাঁর পৈতৃক জমিতে নির্মাণ করা আরও নয়টিসহ ১৫টি দোকান দখল করে ভাড়া তুলছেন, যার কোনো বৈধ কাগজপত্র সনেটের নেই। তিনি বলেন, এ বছরের জুন থেকে সনেট নিজের দোকানের ভাড়াও দেন না।
এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেছেন মিন্টু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে নির্দেশ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে আসাদুর জামান সনেট বলেন, রেলওয়ের কাছ থেকে বাতিল হওয়ার কোনো নোটিশ অফিশিয়ালভাবে তিনি পাননি। তিনি ওই মার্কেটের জায়গার এখনো ভাড়াটিয়া। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ১৩টি দোকানের ভাড়া তুলেছেন। এগুলো কোনো পৈতৃক জমিতে নয় বলে তাঁর দাবি। অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থাপনা নির্মাণের খরচ দেওয়ার জন্য তিনি যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু মিন্টু দেখা করেন না।
সনেটের চাচা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মার্কেটের মালিকের কাগজপত্র বৈধ নয়। বিগত ১০ বছর তিনি জমির খাজনা দেন না। এরপর তাঁর ভাইপো সনেট রেলওয়ের কাছ থেকে ডিসিআর নিয়ে এসেছে। অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া তোলা যায় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই আসাদুর জামান সনেট বিএনপির কেউ নন। যাঁর মার্কেট দখল করা হয়েছে, তিনি যদি আইনি সহযোগিতা নেন এবং কাগজপত্র সঠিক থাকে, অবশ্যই তাঁর পক্ষে তাঁর অবস্থান থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক কারবারির জায়গা হবে না এবং বিষয়টি জানার পর তিনি ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।




