সার্বিয়ায় ছাত্র-নেতৃত্বাধীন তালিকার কাছে আগাম নির্বাচনে হার মানলেন ভুচিচ, ২৫০ আসনে এগিয়ে ছাত্ররা
সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ আগাম সংসদ নির্বাচনে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন একটি আন্দোলনের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন, যে আন্দোলন প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল।
রোববারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ভুচিচ ছাত্র তালিকার কাছে পরাজয় মেনে নেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) নেতা ভুচিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’ ভোটের একটি নমুনা অনুযায়ী তাঁর নির্বাচনী তালিকা সার্বিয়ার ২৫০ সদস্যের সংসদে ১০৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্র তালিকার আসন ১৩৫ থেকে ১৪০টি হতে পারে।
ছাত্র আন্দোলনটির উত্থান ঘটে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নোভি সাদ শহরে একটি ট্রেন স্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর।
তরুণদের নেতৃত্বে সেই বিক্ষোভ পরে বিস্তৃত সামাজিক অসন্তোষে রূপ নেয় এবং ছাত্র তালিকা নামে একটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়, যা দুর্নীতি মোকাবিলা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং নাগরিকদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেয়।
নির্বাচনী প্রচারে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন নোভি সাদের মেডিসিন অনুষদের অধ্যাপক ইলিজা স্রদানোভিচ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিকিৎসক ও শ্রমিকরাও ছিলেন, যাঁদের ভুচিচ ‘অবরোধকারী’ বলে অভিহিত করে সার্বিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন।
বেলগ্রেডে ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া ভুচিচ ১৯৯৩ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। টমিস্লাভ নিকোলিচের সঙ্গে মিলে তিনি ২০০৮ সালে এসএনএস প্রতিষ্ঠা করেন, যা মূলধারার ইউরোপীয় রাজনীতির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে।
ভুচিচ ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন, তিন বছর পর প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০২২ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের চাপে তিনি সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং আগাম নির্বাচনের ডাক দেন। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ সাংবিধানিকভাবে সীমিত হলেও তিনি তাঁর দল ও রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন।
সার্বিয়ার সাংবাদিক সাফেতা বিসেভাচ আল জাজিরাকে বলেন, ভুচিচ অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও কমই পূরণ করেছেন, তবে এর মধ্যে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজনৈতিক বিজ্ঞানী দুস্কো রাদোসাভলিয়েভিচের মতে, ছাত্ররাই নাগরিকদের ন্যায্য ক্ষোভকে কণ্ঠ দিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে ভুচিচের সময়ে সার্বিয়ায় বেকারত্ব ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমেছে, নামমাত্র জিডিপি প্রায় তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে এবং বার্ষিক প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ২০১২ সালের প্রায় ৮০ কোটি ইউরো থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৫২০ কোটি ইউরো হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় তথ্য ও রয়টার্সের বরাতে জানানো হয়। তবে মজুরি বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনমানের উন্নতি হয়নি বলে বিতর্ক রয়েছে।

