ফেনীর দাগনভূঞায় বটি দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, মেয়ে আটক
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মেয়ে রানু আক্তারের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বড় বাড়ির হোসেন মিয়ার ঘরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী এবং অভিযুক্ত রানু আক্তার তাঁদের মেয়ে।
খবর পেয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে রানু আক্তার অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাঁকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং মানসিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে তাঁর মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন ও দরজা ভেতর থেকে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, রানু আক্তার আগের থেকে মানসিক অসুস্থ ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বামী তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। চিকিৎসার জন্য তাঁকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা ছিল।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানালেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।



