অস্ট্রেলিয়ায় সাইবার হুমকি বাড়ছে: হঠাৎ অনলাইন সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলল গোয়েন্দা সংস্থা

অস্ট্রেলিয়ার সংকেত গোয়েন্দা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট (এএসডি) সতর্ক করে বলেছে, দেশটির মানুষকে প্রস্তুত থাকতে হবে যেন মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সেবাগুলো হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে তার চালু থাকার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
সংস্থাটির বার্ষিক সাইবার হুমকি প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল বিদেশি সরকার, অপরাধী ও হ্যাকাররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাহত করা এবং অর্থ চুরির কাজ করছে।
এএসডির মহাপরিচালক অ্যাবিগেইল ব্র্যাডশ সোমবার বলেন, এআই-সক্ষম হামলাকারীদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে হলে প্রতিরক্ষা স্বয়ংক্রিয় করতে এআই সরঞ্জামই দরকার। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিদিন নির্ভর করা ব্যবস্থাগুলো রক্ষায় প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার ভিত আধুনিক করার গতি বাড়াতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে এএসডি ১ হাজার ৫০০টি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনায় সাড়া দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ব্যবসা, সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৪ হাজার ৪০০টির বেশি সম্ভাব্য ক্ষতিকর সাইবার ঘটনার কথা জানানো হয়েছে, যা এক বছরে ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ও বেসরকারি নেটওয়ার্কে রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলোর ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমন পক্ষগুলো ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে হামলা চালাতে পারে, যার মধ্যে ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা বিঘ্ন ঘটানোর কাজও থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই সহজলভ্য হওয়ায় সাইবার অপরাধী ও রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুর্বলতা খুঁজে হামলা চালাতে পারছে। এএসডি বলেছে, সব নেটওয়ার্ক মালিকই এখন উঁচু মাত্রার হুমকির মুখে আছেন এবং সাইবার নিরাপত্তা এখন শুধু কারিগরি বিষয় নয়, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব।
ব্র্যাডশ পুরোনো প্রযুক্তিকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবস্থা বা যেসব যন্ত্রের জন্য নির্মাতারা আর হালনাগাদ দেন না, সেগুলো হ্যাকারদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লক্ষ্য। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে, এএসডির সহায়তা নিতে এবং সন্দেহজনক ঘটনা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বলেন, এগিয়ে থাকতে হলে অস্ট্রেলিয়ানদের সাইবার প্রতিরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি এআইয়ের সুবিধাও কাজে লাগাতে হবে। স্বরাষ্ট্র ও সাইবার নিরাপত্তামন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, সরকার উদীয়মান প্রযুক্তির হুমকি ও সুযোগ মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়াকে প্রস্তুত করছে।
ব্র্যাডশ ও মার্লেস বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ব্যবস্থা অনলাইনে রাখার চেয়ে তার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যার অর্থ হতে পারে নিরাপদ করার সময় কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা। ব্র্যাডশের ভাষায়, এআইয়ে বদলে যাওয়া হুমকির পরিবেশে সম্মিলিত পদক্ষেপই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা।



