পেনসিলভানিয়ায় শিশু যৌন নিপীড়নের ভুক্তভোগীদের মামলার সুযোগ দেওয়ার বিল আবার আটকে গেল, ৩০ নভেম্বর মেয়াদ শেষের মুখে

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়নের ভুক্তভোগীদের জন্য মামলা করার সময়সীমা সাময়িকভাবে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব আবার আটকে গেছে। রাজ্যের আইনসভায় বিলটি থমকে যাওয়ায় বহু বছর আগের নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থেকে ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার মুখে পড়েছেন।
প্রস্তাবটি রাজ্যের সংবিধান সংশোধনের একটি উদ্যোগ। এটি পাস হলে দুই বছরের একটি ‘লুকব্যাক’ সময়সীমা খুলে যেত, যার মধ্যে ভুক্তভোগীরা আইনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া পুরোনো নির্যাতনের ঘটনাতেও মামলা করতে পারতেন। নিউইয়র্ক থেকে লুইজিয়ানা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের ব্যবস্থা পাস হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি জুন মাসে পাস হয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকান সিনেটররা এটিকে ভোটার পরিচয়পত্রের শর্ত সম্প্রসারণের একটি পৃথক প্রস্তাবের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় বিলটি আটকে যায়; ভোটার পরিচয়ের ওই শর্ত অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার কাছে লাল রেখা। ৩০ নভেম্বর বর্তমান আইনসভা অধিবেশনের মেয়াদ শেষ হলে বিলটির মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।
ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকান সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ দ্বিদলীয় এই প্রস্তাব নিয়ে রাজনীতি করছে। রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো আগেও রিপাবলিকানদের সমালোচনা করেছেন; এ বছরের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে ছয়বার পাস হয়েছে, কিন্তু কখনোই তাঁর ডেস্ক পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
এ ধরনের আইনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেষ্টা চলছে অন্তত ২০১৮ সাল থেকে। ওই বছর রাজ্যের ক্যাথলিক চার্চে বড় আকারের শিশু যৌন নিপীড়ন কেলেঙ্কারি প্রকাশ পায়, যেখানে ৩০০ জনের বেশি তথাকথিত ‘প্রিডেটর প্রিস্ট’ অন্তত ১ হাজার শিশুর ক্ষতি করেছেন বলে পাওয়া যায়।
২০২১ সালে তৎকালীন গভর্নর টম উলফের প্রশাসনের ‘অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিগত ব্যর্থতায়’ ভোটাররা গণভোটের মাধ্যমে আইনটি চূড়ান্ত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এর পর থেকে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় প্রস্তাবের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার আইন অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন কার্যকর হতে হলে একই ভাষার প্রস্তাব পরপর দুটি আইনসভা অধিবেশনে পাস হতে হয়; এ বছরের প্রস্তাবটি রাজ্য সিনেটে তোলাই হয়নি।
সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার মার্ক রজ্জি সিনেটরদের প্রস্তাবটি এগিয়ে নিতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং শাপিরোকেও যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার জন্য দায়ী করেছেন বলে অলাভজনক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম স্পটলাইট পিএ জানিয়েছে। নিজে ক্যাথলিক পুরোহিতের হাতে নিপীড়নের শিকার রজ্জি বলেন, যেসব ভুক্তভোগী এই আইন পাসের অপেক্ষায় আছেন এবং যারা এখনো সামনে আসেননি, তারা আদালতে তাদের দিন পাওয়ার অধিকার রাখেন; অপরাধী হোক বা অপরাধীদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান, শেষ পর্যন্ত তাদের জবাবদিহির মুখে পড়তেই হবে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতারা পাল্টা ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন; তাদের দাবি, ভোটার পরিচয় প্রস্তাবে নিষ্ক্রিয়তার কারণেই ভুক্তভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডেমোক্র্যাট রাজ্য সিনেটর মারিয়া কলেট বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ভোটারদের জন্য সুযোগ এনে দিতে পারে—শাপিরো পুনর্নির্বাচিত হলে এবং ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পেলে লুকব্যাক আইন পাস হতে পারে।




