ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলা যুদ্ধাপরাধ, শীতকে অস্ত্র করা হয়েছে: জাতিসংঘ কমিশন
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা যুদ্ধাপরাধ, কারণ এসব হামলার মাধ্যমে শীতের ঠান্ডাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জাতিসংঘের একটি কমিশন জানিয়েছে।
ইউক্রেনবিষয়ক Independent International Commission of Inquiry সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে ২০২২ সালের শরৎ থেকে হিটিং প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন, গ্যাস স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে বছরের পর বছর ধরে চালানো রুশ হামলার চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন রাশিয়া এ ধরনের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে মস্কো প্রতি বছর ইউক্রেনের নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে, যার আপাত উদ্দেশ্য দেশটির প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ও সক্ষমতা দুর্বল করা।
কমিশন বলেছে, ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় আকারের হামলা বেসামরিকদের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে এবং সেগুলোর সম্মিলিত ফল কী হয়েছে, তা তারা তদন্ত করে দেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসঙ্গে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিত ধারাবাহিক হামলার মাত্রা, তীব্রতা ও ভৌগোলিক বিস্তার বছরের পর বছর বেড়েছে এবং এতে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ২০২৫-২৬ সালের তীব্র শীতের রুশ হামলাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সময় তাপমাত্রা মাইনাস ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল। এতে ইউক্রেনের লক্ষ লক্ষ মানুষকে দীর্ঘ সময় গরমের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস ছাড়া থাকতে হয়েছে এবং অসহনীয় জীবনযাপনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যেসব রুশ কমান্ডার এসব হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা জানতেন যে লক্ষ্যবস্তু হওয়া হিটিং স্থাপনাগুলো বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ কর্তৃপক্ষ আরও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে এবং সেগুলো চালানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত, তারা বেসামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা নির্দেশ দেওয়ার যুদ্ধাপরাধ করেছে।
কমিশনের চেয়ার এরিক মোস বলেছেন, ঠান্ডার মৌসুম এগিয়ে আসায় হামলা আবারও তীব্র হয়েছে, যা বেসামরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্যের হুমকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে শীত এগিয়ে আসায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর প্রতিদিনের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির তেমন কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। সোমবার ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়ায় রাতভর রুশ হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর মিখাইলো সেমিকিন টেলিগ্রামে জানিয়েছেন। অন্যদিকে মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, এ সপ্তাহে পরিকল্পিত স্থানীয় যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেন বারবার দক্ষিণ ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত শহর ওলেশকিতে হামলা চালিয়েছে।
মানবাধিকার পরিষদের গঠিত এই কমিশন প্রতিবেদনে মস্কোর বিরুদ্ধে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে বিদেশি যোদ্ধা নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত মানব পাচারের অভিযোগও তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ আছেন, অন্যরা আহত হয়েছেন বা বন্দি হয়েছেন।




