ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ইভানসে তিন শিশুর ওপর বছরের পর বছর নির্যাতনের অভিযোগ, দম্পতির বিরুদ্ধে ছয়টি করে ফেলনি অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ইভানসের বাসিন্দা এক দম্পতির বিরুদ্ধে ফেলনি অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে তিনটি শিশু বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হয়েছে—স্থানীয় শেরিফ সেই বাড়িকে বাস্তবের এক ‘ভয়াবহতার বাড়ি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এরিকা লিন সায়ার (৪৫) ও তাঁর স্বামী ক্লিফোর্ড গেল সায়ার (৪৬)—দুজনই ইভানসের বাসিন্দা। জ্যাকসন কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ‘বিস্তৃত তদন্তের’ পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সোমবার জানিয়েছে।
এরিকা ও ক্লিফোর্ড সায়ারের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ছয়টি করে ফেলনি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে শিশু অবহেলার তিনটি করে অভিযোগ। এর বাইরে এরিকা সায়ারের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ঘটিয়ে শিশু নির্যাতনের আরও তিনটি অভিযোগ এবং ক্লিফোর্ড সায়ারের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতসহ শিশু অবহেলার আরও তিনটি অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুদের বারবার আঘাত করা হয়েছে ও গলা টিপে ধরা হয়েছে, তাদের খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং বাথরুম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুদের বিছানায় নোংরা বিড়ালের লিটার ফেলে দেওয়া হতো, তাদের জিনিসপত্রে কুকুরের মল রাখা হতো এবং শাস্তি হিসেবে খালি পায়ে নুড়িপাথরের ড্রাইভওয়েতে দৌড়াতে বাধ্য করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের ঘরের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, মুখে নোংরা মোজা পুরতে বাধ্য করা হয়েছে এবং জোর করে তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
এক শিশু জানিয়েছে, একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল, যাতে রক্তাক্ত আঘাত লাগে, কিন্তু তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। শেরিফ দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিশুকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল—শিশু সুরক্ষা সেবা সংস্থার (সিপিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে হত্যা করা হবে।
সাক্ষাৎকারের সময় এক শিশু আবেগপ্রবণ হয়ে তদন্তকারীদের বলে, ‘আমি ওই বাড়িতে ফিরে যেতে পারছি না।’ আরেক শিশু বলেছে, সে ‘শুধু একটি স্বাভাবিক জীবন চায়’। ফরেনসিক সাক্ষাৎকারে শিশুরা বলেছে, ‘কারণ মা আমাদের মারে, আর গেল তা হতে দেয়।’
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ক্লিফোর্ড সায়ার বারবার এই নির্যাতন দেখলেও বাধা দেননি। এক শিশুর দাবি, এরিকা সায়ার রেজর ব্লেড দিয়ে তার চুল কাটার সময় ক্লিফোর্ড তার হাত ধরে রেখেছিলেন, যাতে সে আঘাত পায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা শিশু সুরক্ষা সেবা সংস্থা ও একটি চাইল্ড অ্যাডভোকেসি সেন্টারের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং শিশুদের শরীরে এমন দাগ নথিভুক্ত করেছেন, যা তাদের বক্তব্যের অংশবিশেষের সঙ্গে মিলে যায়। শিশুদের বক্তব্য একে অপরের বক্তব্য এবং সংগৃহীত অন্যান্য শারীরিক প্রমাণের সঙ্গেও মিলেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সব শিশুকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে একাধিক সাক্ষাৎকার, চিকিৎসা পরীক্ষা ও ছবিভিত্তিক প্রমাণ সংগ্রহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেরিফ রস মেলিঞ্জার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জ্যাকসন কাউন্টি শেরিফ বিভাগ শিশু নির্যাতন ও দুর্বল শিশুদের অবহেলার অভিযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে এবং এমন প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ ও দক্ষভাবে তদন্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, তদন্তের ফলাফল গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং সন্দেহভাজন শিশু নির্যাতনের কথা জানানোর গুরুত্বই তা তুলে ধরে—শিশুরা বাস্তবের এক ‘ভয়াবহতার বাড়িতে’ বাস করছিল, যেখানে তাদের রক্ষা করার কথা ছিল এমন প্রাপ্তবয়স্করাই সেই পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।



