ক্র্যানফোর্ডে ই-বাইকে থাকা দুই কিশোরীকে গাড়িচাপায় হত্যার অভিযোগে নিউ জার্সির তরুণ ভিনসেন্ট বাত্তিলোরো ‘দোষী নই’ দাবি করলেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ই-বাইকে চড়া ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে ইচ্ছাকৃতভাবে এসইউভি দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক তরুণ সোমবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। অভিযুক্তের নাম ভিনসেন্ট বাত্তিলোরো, বয়স ১৮ বছর, তিনি গারউডের বাসিন্দা।
বাত্তিলোরো সোমবার আদালতে হাজির হন। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার হত্যার দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এটাই ছিল তাঁর আনুষ্ঠানিক হাজিরা।
নিহত দুই কিশোরী হলেন মারিয়া নিওটিস ও ইসাবেলা সালাস, দুজনেরই বয়স ১৭ বছর। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ক্র্যানফোর্ডের একটি আবাসিক রাস্তায় দুই বন্ধু ই-বাইকে চড়ে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি জিপ কম্পাস তাঁদের ধাক্কা দেয় এবং তাঁরা নিহত হন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এসইউভিটি কাছেই পাওয়া যায়—এর সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং একটি ই-বাইক গাড়ির সামনের অংশে আটকে ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাত্তিলোরো ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান।
পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাত্তিলোরো দাবি করেন, ওই দিন বিকেলে এসইউভি চালানোর সময় ছুরি হাতে এক মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁর গাড়ি ছিনতাই করেছিল—অভিযোগপত্রে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সময় বাত্তিলোরোর বয়স ছিল ১৭ বছর। দুই দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুরুতে কিশোর হিসেবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। গত জুনে তাঁকে প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
সোমবারের শুনানিতে বাত্তিলোরো কোনো কথা বলেননি—প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে অভিযুক্ত হওয়ার পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম শুনানি। তাঁর একজন আইনজীবী তাঁর পক্ষে নির্দোষ দাবির আবেদন জানান। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর। তাঁর আইনজীবীদের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সোমবারের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুই কিশোরীর নাম ও ছবি ছাপা সোয়েটশার্ট পরে এসেছিলেন।
দুই পরিবার সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘মারিয়া ও ইসাবেলার আজ বেঁচে থাকার কথা ছিল। এই পরিবারগুলো এবং এই সম্প্রদায়ের প্রতিটি অভিভাবকের জানার অধিকার আছে—কীভাবে এই অবর্ণনীয় বিপর্যয় ঘটতে দেওয়া হলো।’ পরিবারগুলো নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে দুই কিশোরীর মৃত্যুর আগের ঘটনাবলি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ভিনসেন্ট বাত্তিলোরো ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ধরনের লেনদেন ও যোগাযোগ খতিয়ে দেখার দাবিও রয়েছে।
বাত্তিলোরোর গ্রেপ্তারের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে কিশোরীদের পরিবার অভিযোগ করেছিল, অভিযুক্ত কয়েক মাস ধরে নিওটিসের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সেই ‘ভয়াবহ ঘটনায়’ তাঁকে ও তাঁর বন্ধুকে হত্যা করেন। তবে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।



