আসামের গুয়াহাটিতে হোটেলে গোলাগুলিতে মালিকসহ নিহত ৫, লিজগ্রহীতা গ্রেপ্তার

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে একটি হোটেলে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। স্থানীয় সময় সোমবার গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার হোটেল বিলাস ইনে এই ঘটনা ঘটে।
হোটেলের মালিক ও লিজগ্রহীতার মধ্যে বিরোধের জেরেই এই গোলাগুলি হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত লিজগ্রহীতা ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতেরা হলেন হোটেলের মালিক হেলেনা ভারালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভারালি।
গুলিবিদ্ধ সত্যেন্দ্র পাঠক নামে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও এক ব্যক্তি গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত সাংবাদিকদের জানান, গুলিতে মোট ছয়জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজনের চিকিৎসা চলছে। হামলায় ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি বৈধ লাইসেন্সধারী পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, হোটেলের লিজ চুক্তি নিয়ে সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, নিহত ও আহত প্রত্যেকেই হোটেলের মালিকের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং হোটেলটি যিনি লিজ নিয়েছিলেন, তিনিই গুলি চালিয়েছেন।
ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং কীভাবে গুলিচালনা শুরু হয়, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই গুলিচালনার ঘটনায় গুয়াহাটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জোরহাটের এই সংসদ সদস্য নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, এই ঘটনা গুয়াহাটিতে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে এর দায় নিতে হবে।



