গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে তিনটি আবিষ্কারের দাবি ওপেনএআইয়ের এআই মডেলের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই মডেল গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করেছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটি এই ঘোষণা দেয়।
ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি নতুন আবিষ্কার হারমোনিক অ্যানালাইসিস, কমপ্লেক্সিটি থিওরি ও কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি—এই তিনটি ক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
আবিষ্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে লোকাল স্মুথিং কনজেকচারের প্রমাণ। ওপেনএআই বলেছে, হারমোনিক অ্যানালাইসিসের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রস্তাবনা এই কনজেকচারটি তাদের মডেল সব স্থানিক মাত্রায় প্রথমবার প্রমাণ করেছে।
হারমোনিক অ্যানালাইসিস গণিতের একটি শাখা, যেখানে জটিল সংকেত ও ফাংশনকে প্রাথমিক তরঙ্গে ভেঙে বিশ্লেষণ করা হয়। এই ক্ষেত্রের গবেষকেরা এর আগে কনজেকচারটি শুধু তিন মাত্রায় প্রমাণ করতে পেরেছিলেন।
রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ও হারমোনিক অ্যানালাইসিস বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ইওসেভিচ বলেছেন, ওপেনএআই কনজেকচারটির সমাধান বের করেছে বলে মনে হচ্ছে এবং এটি একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি।
ইওসেভিচ জানান, কনজেকচারটি প্রণয়ন করেছিলেন তাঁর পিএইচডি উপদেষ্টা ক্রিস সোগে, তাই বিষয়টি তাঁর কাছে বিশেষভাবে কাছের। খবরটি প্রথমে তাঁকে বিস্মিত করলেও পরে তিনি আনন্দ ও আশাবাদের কথা জানান, কারণ এআই বিপ্লবের ফলে সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড বড় অগ্রগতি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, এআইয়ের কারণে তাত্ত্বিক গণিতের ক্ষেত্রটি নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে বলে তিনি আশা করেন। একইসঙ্গে তিনি কিছুটা দুঃখের কথাও জানান এবং বলেন, তাঁর পরিচিত অনেক তাত্ত্বিক গণিতবিদ একই অনুভূতি পোষণ করেন, তবে এই অনুভূতি শিগগিরই কেটে যাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
ইওসেভিচের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশুদ্ধ গণিতের সমস্যাগুলো শূন্য থেকে আসেনি; অনেক সমস্যার উৎস ছিল সুনির্দিষ্ট ভৌত বিবেচনা, আর এখন সেই সংযোগগুলো দ্রুত ও সুনির্দিষ্টভাবে অনুসন্ধান করা যাবে।
ওপেনএআইয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের মডেল এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিসকেও ভুল প্রমাণ করেছে। এই হাইপোথিসিস জটিল গণনামূলক সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এছাড়া মডেলগুলো কোয়ান্টাম ক্রোমোডাইনামিক্সের অস্তিত্বের গাণিতিকভাবে কঠোর প্রমাণ দিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। কোয়ান্টাম ক্রোমোডাইনামিক্স কোয়ার্ক ও গ্লুয়নের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া নিয়ে কাজ করে।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজেদের কাঁচা গবেষণা তথ্যকে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়ায় রূপ দিতে তারা প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে তারা তিনটি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরামর্শ করেছে; এই দলগুলোকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের দল দুটি এআইয়ের তৈরি তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেও পদার্থবিজ্ঞানের দলটি নিজেদের ব্যাখ্যা লিখে প্রকাশের জন্য প্রকাশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওপেনএআই বলেছে, প্রতিটি পদ্ধতিরই সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে। সহযোগিতা বিশেষজ্ঞদের ফলাফল ব্যাখ্যা ও বৃহত্তর শিক্ষাজগতে প্রেক্ষাপট তৈরিতে সহায়তা করে, আবার প্রাথমিক তত্ত্বাবধায়ক বেছে নেওয়া কারা প্রথমে যুক্ত হবেন তা নির্ধারণ করে এবং তথ্যের অসামঞ্জস্য তৈরি করে। অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি মতামত চেয়েছে। ৮৫২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ঘোষণাটি এআইকে কৃতিত্ব দেওয়া ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দাবির সর্বশেষটি।
এর আগে গত মাসে ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক সিআরআইএসপিআরের মতো একটি নতুন এনজাইম আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিল। ক্যানসার ও সিকল সেল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত যুগান্তকারী জিন-সম্পাদনা পদ্ধতি সিআরআইএসপিআরের সঙ্গে তুলনা করা সেই ঘোষণা বিজ্ঞানীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল—কেউ কেউ এটিকে উত্তেজনাপূর্ণ বললেও অন্যরা বলেছিলেন, এআই প্রতিষ্ঠানটি এর গুরুত্ব অতিরঞ্জিত করেছে।



