অসুস্থ বাবার খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ ইসলামি বক্তা তাশরীফের বিরুদ্ধে, জবাবে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনা

ইসলামি বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়ার এবং খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন তাঁর বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ছেলের বিরুদ্ধে নিজের কষ্ট ও অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেদায়েতুল্লাহ দাবি করেন, অসুস্থ অবস্থায় আর্থিক সহায়তা চেয়েও ছেলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
হেদায়েতুল্লাহর ভাষ্য, ইমামতি করে সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়ালেখা ও চিকিৎসার জন্য তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ছোটবেলায় তাশরীফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁকে চিকিৎসা করিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বাবার অভিযোগ, ছেলের পরামর্শে তিনি একটি বাজার মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেন। তাশরীফ প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আশ্বাসে চাকরি ছাড়লেও পরে কোনো টাকা পাননি বলে তিনি দাবি করেন।
ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর দাবি, বারবার ফোন করেও ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না, আর ছেলের এক সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। নিজের অসুস্থতার সময় আর্থিক সহায়তা না পেয়ে ছেলে জমি কেনার কথা জানিয়ে টাকা দিতে পারেনি বলেও তিনি জানান।
কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন হেদায়েতুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলে কোরবানি দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে কোনো গোশত পাননি। এ ঘটনায়ও নিজের প্রতি অবহেলার অভিযোগ করেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হেদায়েতুল্লাহ জানান, ছেলেকে বড় করতে এবং প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অথচ এখন অসুস্থ অবস্থায় তাঁর খোঁজখবর নেওয়া কিংবা পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাচ্ছেন না বলে তাঁর অভিযোগ।
বাবার এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন, যাতে লেখা ছিল, ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে’।
তাশরীফের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকা এই ইসলামি বক্তাকে নিয়ে বাবার অভিযোগের পর আলোচনা আরও বেড়েছে।




