সুদানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ৩০ দেশের
সুদানে খাদ্য নিরাপত্তার ‘উদ্বেগজনক অবনতি’ নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ৩০টি দেশ। আফ্রিকার দেশটিতে দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে ‘জরুরি পদক্ষেপের’ আহ্বান জানিয়েছে তারা। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা সুদানের গৃহযুদ্ধে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘মানবিক সহায়তার পথে সব বাধা তুলে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনাবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার বাইরে বিবৃতিটিতে ২৮টি ইউরোপীয় দেশ স্বাক্ষর করেছে বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সুদান খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগজনক অবনতির মুখোমুখি হচ্ছে। সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাসের (আইপিসি) সতর্কতা অনুযায়ী আগামী মাসগুলোতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ দরকার।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোরই সুদানি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের প্রাথমিক দায়িত্ব রয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আধা সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সঙ্গে লড়ছে। দুই বাহিনীকে একীভূত করার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধ রাজধানী খার্তুমে সংঘর্ষে রূপ নিলে যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।
জুন মাসে জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি জানায়, সুদানে ৫১ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষকেরা ফসল তোলায় হিমশিম খাচ্ছেন। আইপিসি বলেছে, এল নিনোর সঙ্গে যুক্ত খরা এ বছর খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা পূর্বাভাস দেওয়া ৮ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
স্বাক্ষরকারীরা যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সম্মুখসমর রেখা ও সীমানা পেরিয়ে সব পথে, দারফুর অঞ্চলে আকাশপথে প্রবেশসহ, মানবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সুদানজুড়ে মানবিক কর্মীদের উপস্থিতি ও সুরক্ষা বজায় রাখা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত না করার আহ্বানও জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের মুখে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব সদস্যকে বর্ধিত চাহিদার জবাবে জরুরিভাবে তহবিল বাড়ানোর এবং যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’


